kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাবনায় কোরবানির পশুর হাট

চাহিদা বেশি দেশি গরুতে

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চাহিদা বেশি দেশি গরুতে

কোরবানি ঈদ সামনে রেখে প্রতিবছর পাবনা ও এর আশপাশের হাটগুলোতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গরু দেখা যেত। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত ভারতীয় গরুর কেনাবেচা খুব একটা চোখে পড়েনি।

হাটে পর্যাপ্ত দেশি গরু রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যাপারী ও গবাদি পশুর খামারিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, খামারগুলোতে প্রচুর দেশি গরু পালন করা হয়েছে। এ দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। অন্যদিকে ক্রেতারা দেশি গরু কিনতে পছন্দ করছে বেশি।

জানা যায়, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই পাবনা সদরসহ ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলার গৃহস্থরা গবাদি পশু পালন করে। অনেকেই ছোট-বড় খামার গড়ে তুলেছে, আবার কেউ কেউ বাড়িতে স্বল্প পরিসরে গবাদি পশু পালন করেছে।

গত দুই দিনে জেলার সদর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলার কয়েকটি গরুর খামার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ষাঁড় পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে ছোট-বড় খামারিরা। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরুকে মোটাতাজা করছে তারা। গত কয়েক বছরে অসাধু উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হলেও এবার সচেতন খামারিরা। তাদের আশা, বাজারে এবার দেশি গরুর চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

চাটমোহর উপজেলার কুমারগাড়া গ্রামের খামারি ইউসুফ আলী বলেন, ‘এবারের কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আমি ছয়টি গরু কিনে এক বছর ধরে লালন-পালন করছি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করেছি। আশা করছি ঈদের হাটে ভালো দাম পাব। ’

একই উপজেলার মহেলা গ্রামের খামারি টিপু হোসেন বলেন, ‘আমরা আগে ভারতীয় স্টেরয়েড ট্যাবলেট-ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজা করে ক্ষতির মুখে পড়েছি। ক্ষতিকর দিক গণমাধ্যমে প্রচারের পর আমরা এখন সচেতন। এখন বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে দেশি খাবার দিয়ে গরু মোটাতাজা করি। এতে মাংস ভালো পাওয়া যায়, লাভও হয় বেশি। ’

পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা গ্রামের খামারি সাবান হোসেন, আসাদুল্লাসহ অন্যরা জানান, কোরবানি পশু বিক্রির ক্ষেত্রে পাবনা সদরের হাজির হাট, পুষ্পপাড়া হাট, ঈশ্বরদী অড়োনকোলা হাট, বেড়া উপজেলার চতুর হাট, চাটমোহরের রেলবাজার হাটসহ ছোট-বড় সব হাটে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সব হাটেই ক্রেতারা দেশি গরুকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি উদ্যোগেও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ষাঁড় গরু মোটাতাজা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। চাটমোহর উপজেলার ইছাখালী গ্রামে প্রজ্ঞা এগ্রো এন্টারপ্রাইজ নামের একটি খামারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭০টি ষাঁড় গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রি করা হবে।

খামারের ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খড়, ভুসি, লালি গুড়, খুদের ভাত, ঘাসসহ বিভিন্ন দেশি খাবার দিয়ে ষাঁড় গরু মোটাতাজা করছি। এর মধ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিকর মেডিসিন ব্যবহার করা হয়নি। ভারতীয় গরু আমদানি না হলে আমরা ভালো দাম পাব। ’ তাঁর কাছ থেকে জানা গেল, ক্রেতাদের কাছে এখন দেশি গরুর চাহিদা অনেক বেশি।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গরুর হাট ঈশ্বরদীর অড়োনকোলা হাটের ইজারাদার মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, এবারের ঈদে অড়োনকোলা হাটে একটিও ভারতীয় গরু বিক্রির জন্য আসেনি। পাশাপাশি কোনো ক্রেতাও ভারতীয় গরু কেনার জন্য আগ্রহ দেখায়নি। তিনি আরো জানান, এবার হাটগুলোতে গরু, ছাগল, ভেড়ার পর্যাপ্ত আমদানি রয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সব হাটেই পশু আমদানির হার আরো অনেক বাড়বে। তিনি বলেন, হাটগুলোতে যে পরিমাণ পশুর আমদানি রয়েছে তা দিয়ে নির্বিঘ্নেই কোরবানি পশুর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল গফুর জানান, চলতি বছর পাবনা জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা এক লাখ ৩২ হাজারটি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন খামারে উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯২০টি গবাদি পশু। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে কোরবানির জন্য জেলার মোট চাহিদার চেয়েও প্রায় পাঁচ হাজার গবাদি পশু অতিরিক্ত উৎপাদন করা হয়েছে। এসব গবাদি পশু জেলার ছোট-বড় মোট ৫৮টি কোরবানির হাটে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি অসাধু উপায়ে মোটাতাজা করা পশু চিহ্নিত করতে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম স্থাপন করা হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর কালের কণ্ঠকে জানান, জাল টাকা শনাক্তকরণের জন্য প্রতিটি হাটে শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য