kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জলঢাকা পৌরসভা

মেয়রের অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরলেন ৬ কাউন্সিলর

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেটের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছয় কাউন্সিলর। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নীলফামারী প্রেস ক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তবে কাউন্সিলরদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলররা অভিযোগ করেন, গত ১২ জুলাই জলঢাকা পৌরসভায় প্রহসনের পরীক্ষার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে সাতজন কর্মচারী নিয়োগ দেন মেয়র। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি মেয়র ফাহমিদ ফয়সালের গ্রামের বাড়ি বগুলাগাড়ি এবং একজনের বাড়ি পৌরসভার সচিব আশরাফুজ্জামানের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। তিনি সচিবের স্বজন বলেও দাবি করেন কাউন্সিলররা।

কাউন্সিলররা বলেন, ‘ওই নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধের জন্য আমরা গত ১১ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করলে তিনি স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্নের আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষা নেওয়া হয় প্রহসনের। পরে আমরা ২৩ জুলাই ওই নিয়োগ বাতিল ও মেয়রের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে আবারও লিখিত অভিযোগ করি; যার অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুরে দিই। কিন্তু আমরা কোথাও কোনো প্রতিকার পাইনি। ’

কাউন্সিলররা বলেন, ‘শুধু নিয়োগ বাণিজ্যই নয়, পৌরসভার সচিব আশরাফুজ্জামানের সহযোগিতায় মেয়র পৌরসভার হাটবাজার ইজারা, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের অর্থ উত্তোলন করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাদের রক্তচক্ষু দেখানো হয়। ’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল বলেন, ‘একটি মহলের ইন্ধনে আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগের মূল বিষয় কর্মচারী নিয়োগ। আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার আগে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য জেলা প্রশাসক চারজন প্রতিনিধি দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরাই প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। স্বচ্ছতা নিয়ে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নেই। ’

পৌরসভার রাজস্ব খাতের টাকা ভুয়া ভাউচারে অত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র বলেন, ‘আগে পৌরসভার হাট ইজারা হতো সর্বচ্চ ৪৫ লাখ টাকায়। এবার ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা ইজারা হয়েছে। অন্যান্য রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। সকলের সম্মতিক্রমে রেজুলেশনের মাধ্যমে পৌরসভার উন্নয়নকাজ চলছে। আমি কোথাও দুর্নীতি করলে তারা প্রমাণ করুক। ’

মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা এই পৌরসভার মেয়র থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাঁদের কয়েকজন এবারও নির্বাচিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তাঁরা চাচ্ছেন না আমি জলঢাকা পৌরসভার মেয়র থাকি। ’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রহমত আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ২ নম্বর ওয়াডের্র কাউন্সিলর বিশ্বনাথ রায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফজলুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রণজিৎ কুমার রায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহসীন আলী এবং ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আফরোজা বেগমের পক্ষে তাঁর স্বামী হাফিজুর রহমান।


মন্তব্য