kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মা-বাবার খোঁজে কে এই বেলাল?

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মা-বাবার খোঁজে কে এই বেলাল?

পাঁচ বছর বয়সী শিশু বেলাল। ঝালকাঠিতে বাড়ির পাশে খেলার সময় পাচারকারীরা তাকে অপহরণ করে।

এরপর সিলেট সীমান্ত দিয়ে তাকে ভারতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ভারতের পাচারকারীরা তাকে কিনে নিয়ে বিক্রি করে আসামের গুয়াহাটির পাহাড়ি এলাকায় একটি মদের কারখানায়। সেখানে ১২ বছর কাটে তার বন্দিজীবন।

সেই দিনের শিশু এখনকার ১৭ বছর বয়সী বেলাল হোসেন কৌশলে আসামের গুয়াহাটি থেকে পালিয়ে এসে এমনটা দাবি করেছে।

বেলাল বলছে, তার বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুরের বাইপাস এলাকায়। তার বাবার নাম জসিম উদ্দিন, মায়ের নাম সেলিনা বেগম—এতটুকুই তার স্মরণে রয়েছে।

তবে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত রাজাপুর বাইপাস এলাকার কোনো পরিবার তাদের সন্তান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তার কথাবার্তার মধ্যেও কিছু অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা গেছে। এর পরও বিষয়টি যাচাই করতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা তার মা-বাবাকে খোঁজার চেষ্টা করছেন। বেলাল জানিয়েছে, সেখানকার একটি মদের কারখানায় দীর্ঘ এক যুগ বন্দিজীবন কাটাতে হয় তাকে। সেখানে তাকে মদ তৈরির কাজ করতে হতো। এরপর সম্প্রতি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে ফেনীর পরশুরাম সীমান্তে দালালদের মাধ্যমে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশে আসে সে। সেখান থেকে ফেনীর রানা নামের এক ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় ট্রেনে লক্ষ্মীপুরে আসে। লঞ্চযোগে ভোলা ও বরিশাল হয়ে গত শুক্রবার ঝালকাঠির রাজাপুর বাইপাস এলাকায় আসে বেলাল। সেখানে খসরু নামের এক সবজি বিক্রেতা তাকে আশ্রয় দেয়।

বেলাল আরো বলে, ‘শুধু এটুকু মনে আছে, আমার বাবা খুব সকালে বাড়ি থেকে কাজে বের হতেন। ফিরতেন রাতে। তবে কী কাজ করতেন এখন তা মনে পড়ছে না। একটি কাঁচা রাস্তার পাশে টিনের ঘর ছিল আমাদের। আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলাম। ’ ওই মদের দোকানের নাম কী ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে বেলাল বলে, ‘আমি লেখাপড়া জানি না, তাই নাম মনে নেই। ’

রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছি। ’


মন্তব্য