kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিস্তায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি

কাউনিয়া-গঙ্গাচড়ায় ভয়াবহ ভাঙন

হাতীবান্ধার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রংপুর অফিস ও লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাউনিয়া-গঙ্গাচড়ায় ভয়াবহ ভাঙন

তিস্তা নদীর পাড়ে ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধন করে সাউদপাড়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

হঠাৎ করেই তিস্তা নদীতে পানি বেড়েছে। ভারি বর্ষণ ও ভারতের গজলডোবা বাঁধ খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি এখন বিপত্সীমা ছুুঁই ছুঁই।

এ কারণে ওই এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে রংপুরের কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যার পর পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা নদীর ভাঙন শুরু হয়। গত ১৫ দিনে দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িসহ প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে একটি প্রান্তিক বাঁধ।

লালমনিরহাট : গতকাল শনিবার থেকে তিস্তার পানি বাড়ছে। তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিস্তার পানি বিপত্সীমার তিন সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বাড়ায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবকটি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক বন্যার ক্ষত না শুকাতেই গতকাল থেকে আবারও নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাতীবান্ধার তিস্তার তীরবর্তী সানিয়াজান, চর নিজ শেখ সুন্দর, পার শেখ সুন্দর, বাঘের চর, চর ঠাংঝাড়া, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সিংঙ্গীমারী, চরধুবনী, সিন্দুর্ণা, হলদিবাড়া, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর ডাউয়াবাড়ী গ্রাম।

এ বিষয়ে সানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ‘তিস্তাপারের মানুষজন কিছুদিন আগেই হয়ে যাওয়া বন্যার ধকল এখনো কাটাতে পারেনি। কিন্তু ভারত থেকে আসা পানিতে শনিবার থেকে আবারও মানুষ পানিবন্দি হতে শুরু করেছে। ’

হাতীবান্ধা উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ জানান, পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজ-খবর নেওয়াসহ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রংপুর : গত ১৫ দিনে কাউনিয়ায় তিস্তাতীরবর্তী দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িসহ প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার নিজপাড়া, তালুকশাহবাজ, হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, চর আজম খাঁ, বিশ্বনাথ চর, হয়বত খাঁ চর, টাপুর চর ও ঢুঁষমারা চরের আরো দুই শতাধিক পরিবার। এ ছাড়া গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ভেঙে গেছে একটি প্রান্তিক বাঁধ। হুমকির মুখে পড়েছে সাউদপাড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাসহ ২০টি পরিবারের বাড়িঘর। শিক্ষার্থীরা এলাকার বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবিতে নদীপারে গত বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী ও টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে সরকারিভাবে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সরকারিভাবে যে বরাদ্দ পাওয়া যায় তাতে তাদের কিছুই হয় না। দুই চেয়ারম্যান আরো জানান, ইতিমধ্যে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পরিবারপ্রতি পড়েছে দুই হাজার টাকা।


মন্তব্য