kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নারায়ণগঞ্জে আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

পুলিশের দুই সোর্স আটক তদন্তে কমিটি গঠন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ডাকাতি মামলায় রিমান্ডে থাকা আসামিকে নির্যাতনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার দুই স্ত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান এবং তাঁর দুই সোর্স শুভ ও নজরুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

আটক করা হয়েছে দুই সোর্সকে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন ও দুই সোর্সকে আটক করা হয়। এ ছাড়া বিকেলে আসামির আইনজীবীর চেম্বার থেকে ‘ধর্ষিতা’ দুই সতিনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী পুলিশ সুপার (‘ক’ অঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মণ্ডল। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহ জানান, পুলিশ সোর্স নজরুল ওরফে তোতলা নজরুল ও শুভ এখন থানা হাজতে আটক রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রিমান্ডে থাকা ওই আসামির আইনজীবী মজিবুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তাঁর চেম্বারে আসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম ও এসআই ওমর ফারুক। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁর চেম্বার থেকে আসামির দুই স্ত্রীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। মজিবুর রহমান জানান, পুলিশ সুপারের সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে থানায় নিয়মিত মামলা হবে।

প্রসঙ্গত, একটি ডাকাতি মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার এক ব্যক্তিকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আসামির রিমান্ড মঞ্জুর হলে বুধবার তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। দুই নারীর অভিযোগ, ওই দিন রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই আতাউর রহমানের সোর্স নজরুল ইসলাম ও শুভ তাঁদের ফোন করে জানায়, রিমান্ডে তাঁদের স্বামীকে নির্যাতন করা হবে না। এ জন্য ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। রাত ১০টার দিকে দুই নারী ছয় হাজার টাকা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কাছে যান। সেখানে একটি বাসায় নিয়ে তাঁদের প্রথমে দুই সোর্স এবং পরে এসআই আতাউর ধর্ষণ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই আতাউর রহমান বলেন, দুই নারীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।

 


মন্তব্য