kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পদ্মার ভাঙনের কবলে প্রস্তাবিত রাজবাড়ী সেনানিবাস এলাকা

সর্বস্ব হারিয়ে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে অন্যত্র

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভারত ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা নদী আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন।

রাজবাড়ীর কালুখালীতে প্রস্তাবিত ‘রাজবাড়ী সেনানিবাস’ এলাকায়ও শুরু হয়েছে ভাঙন। তিন দিন ধরে চলছে বিরামহীন ভাঙন। ভাঙন রোধে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশ পুঁতে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রস্তাবিত ‘রাজবাড়ী সেনানিবাস’ নিমাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানকার চর রাজপুর গ্রামে তিন দিন ধরে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যশোর সেনানিবাসের লে. কর্নেল মাহমুদুর রহমান, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধরসহ সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

উপজেলার ছয়টি গ্রামে চলছে নদীভাঙন। ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো হলো চর রামনগর, চরখাঁপুর, ভবানীপুর, কাশিনাথপুর, চরআফড়া ও চরশাহমীরপুর।

রামনগরের তুরাপ আলী (৭০) সাত সন্তানের জনক। তিন বিঘা জমিতে কৃষিকাজ আর নদীতে মাছ শিকার করে চলত এই বৃদ্ধের সংসার। গত কয়েক দিনের ভাঙনে তাঁর ঘরবাড়ি-জমিজমা সব চলে গেছে পদ্মার গ্রাসে। ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত তুরাপ আলী আশ্রয় নিয়েছেন চরপদ্মা মৌজার করিম মাতুব্বরের জমিতে। এখানে তিনি অনাহারে-অর্ধাহারে একমাত্র সম্বল নৌকাটি বিক্রি করে বসবাস করছেন। একই জমিতে আশ্রয় নেওয়া আলাউদ্দিন শিকদার, সবুজ শেখসহ অর্ধশতাধিক বাসিন্দার অসহায় প্রশ্ন—‘এই জমিতে থাকতে না দিলে আমরা যামু কই, খামু কী?’ রামনগরের শফির স্ত্রী ফরিদা জানালেন, নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে চার ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁর দিন কাটছে খোলা আকাশের নিচে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভাঙনকবলিত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশ পুঁতে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।


মন্তব্য