kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির বিবৃতি

সংসদ কমিটির সঙ্গে সভা নিয়ে একপেশে বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আমন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের খবর কিছু সংবাদপত্রে আংশিক প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত খবরে কেবল সরকারের পক্ষের বক্তব্য ছাপা হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

এমন তথ্য উল্লেখ করে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি গতকাল শুক্রবার একটি বিবৃতি দিয়েছে।

জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আমন্ত্রণে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আলোচনার জন্য সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় আমরা কয়েকজন সংসদ ভবনে কমিটির সঙ্গে এক সভায় মিলিত হই। আমি ছাড়াও জাতীয় কমিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ড. বদরুল ইমাম, ড. শামসুল আলম, অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও শরীফ জামিল। সরকারপক্ষে ছিলেন কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এমপি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, কম্পানির কর্মকর্তা ও তাদের বিশেষজ্ঞ। ’

বিবৃতিতে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সভার শুরুতে বিদ্যুৎসচিব রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সরকার ও কম্পানির বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একের পর এক আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করি। কিন্তু একাধিকবার আমাদের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার কারণে খুব কম সময়ের মধ্যে আমাদের বক্তব্য শেষ করতে হয়। এরপর প্রকল্পের পক্ষে বক্তব্য দেন মন্ত্রীসহ সংসদ সদস্য, মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কম্পানির বিশেষজ্ঞ। কতিপয় সংবাদপত্রে এই সভা সম্পর্কিত প্রতিবেদনে শুধুমাত্র সরকারি বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সভায় উপস্থাপিত আমাদের বক্তব্যের কয়েকটি অংশ এখানে উপস্থিত করছি। ’

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘খুব কম সময় পেলেও আমরা আমাদের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে দেখাই যে বাংলাদেশের জন্য অতুলনীয় সম্পদ সুন্দরবন এই কয়লাভিত্তিক প্রকল্প এবং এর দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে আরো বাণিজ্যিক এবং ভূমি ও বনগ্রাসী তত্পরতায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। আমরা দেখাই যে কম্পানি যে দূষণ দূর করার কাহিনী বলছে তার কোনো গ্রহণযোগ্য দৃষ্টান্ত নেই। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার দরপত্র ও অন্যান্য দলিলের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। আর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকেই দেখা যায় যে এতে দূষণ বিপদমুুক্ত মাত্রায় দূর হবে না; অনেক ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হবে মাত্র। তা ছাড়া এগুলো ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উত্পাদনের ব্যয় ও দাম বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যে তথ্য গোপন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবেও তা আর্থিকভাবে খুবই অযৌক্তিক হবে। ’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘সরকারের তদারকি নিয়েও আমরা প্রশ্ন তুলে বলেছি, যেখানে সচিবালয় থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে বুড়িগঙ্গা দূষণে প্রায় মৃত, সেখানে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে সরকারি তদারকি ঠিকঠাকভাবে কাজ করবে, এটা কে বিশ্বাস করবে? তেল ও কয়লার জাহাজডুবির বিষয়ও সভায় তুলে ধরা হয়। সভায় আমরা সরকারি দাবি খণ্ডন করে জানাই যে বড়পুকুরিয়ায় ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র হলেও বিভিন্ন ক্ষতি হচ্ছে। তার প্রমাণও আছে আমাদের কাছে। সরকারপক্ষে দূষণমুক্ত হিসেবে প্রদর্শিত ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে আমরা তথ্য দিয়ে জানাই যে এর সবগুলোই বিভিন্ন মাত্রায় বিপর্যয় সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত। এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ’


মন্তব্য