kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রংপুর ও কুড়িগ্রাম

হাটে প্রচুর দেশি গরু, ভারত থেকে আসছে কম

স্বপন চৌধুরী ও আবদুল খালেক ফারুক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাটে প্রচুর দেশি গরু, ভারত থেকে আসছে কম

সামনে কোরবানির ঈদ। এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে রংপুর অঞ্চলের পশুর হাটগুলো। ছবিটি গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি হাট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রংপুর ও কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী কোরবানি পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। হাটগুলোতে প্রচুর দেশি গরু এসেছে।

অন্য বছরের তুলনায় চোরাইপথে ভারতীয় গরুর আসছে কম। ফলে দেশীয় খামারিরা এবার লাভের আশা করছেন। এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা হাটগুলোতে ভিড় করছেন। যদিও এখন পর্যন্ত স্থানীয়দের মধ্যে গরু কেনাবেচায় আগ্রহ দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি বলে মনে করছেন ক্রেতারা। তবে বিক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে হতাশার কথা শোনা গেছে।

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঈদের সময় চোরাইপথে ব্যাপকসংখ্যায় ভারতীয় গরু এসেছিল। কিন্তু এ বছর সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার হয়ে আসছে কম। বিজিবির কুড়িগ্রামের ২৭ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হেমায়েতুল ইসলাম জানান, সীমান্তে আগের চেয়ে তিন গুণ পাহারা বাড়ানো হয়েছে। কেউ অনুপ্রবেশ করতে চাইলে বিএসএফ গুলি অথবা বোমা নিক্ষেপ করছে। এ কারণে ভারত থেকে গরু আসা কমে গেছে।

বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার আহেমদ চৌধুরী জানান, সীমান্তে গরু পাচার করতে গিয়ে যাতে হতাহতের ঘটনা না ঘটে সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গরু পাচার বন্ধ হলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন। কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী হাট যাত্রাপুর, ভূরুঙ্গামারী ও বালারহাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ভারতীয় বড় আকারের গরু নাই বললেই চলে। কোথাও কোথাও ছোট আকারের ভারতীয় গরু দেখা গেছে। মূলত ছোট গরু ৩০-৪০ হাজার টাকা এবং বড় গরু ৭০-৮৫ হাজার টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

যাত্রাপুর হাটে আসা চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ী মোফাক সওদাগর বলেন, ‘পাঁচ-ছয় দিন অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী গরু পাচ্ছি না। তার ওপর দামও চড়া। ’

কুমিল্লার শাহ আলম বলেন, ‘কোরবানির উপযোগী গরু ভারত থেকে আসছে না। ছোট ছোট বাছুর গরু পাওয়া গেলেও তা কিনতে পারছি না। ’

তবে সীমান্তবর্তী হাটসহ জেলার পশুর হাটগুলোতে এরই মধ্যে উঠতে শুরু করেছে বিপুলসংখ্যক দেশি গরু। তবে সে তুলনায় ক্রেতা নেই। বন্যায় পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ায় পশু পালনের ব্যয় গেছে বেড়ে। অনেকেই বিক্রির জন্য গরু আনছে হাটে। তবে ক্রেতাদের করা দরে তাদের পোষাচ্ছে না বলে জানায় তারা।

নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর থেকে নদীপথে আসা গরু বিক্রেতা এরশাদুল জানান, বন্যার সময় গরু নিয়ে অনেক বিপদে পড়েছিলেন। অনৈক কষ্টে সময়টা পার করেছেন। ভেবেছেন ঈদের সময় ভালো দাম মিলবে। কিন্তু হাটে ক্রেতা নেই।

যাত্রাপুরের কৃষক জয়নাল বলেন, ‘ভুসি আর পোয়ালের (খড়ের) যে দাম। গরু বিক্রি করি লাভ তো দূরের কথা খরচ ওঠে না। ’ 

হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, ভারতীয় গরুর আমদানি কম হওয়ায় হাটে পাইকারদের আনাগোনা কম। আর এতেই কমে গেছে বেচাকেনা। যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘হাটে দেশি গরু অনেক উঠলেও ক্রেতার অভাবে বেচাকেনা অনেক কম। হাট ইজারার টাকা উঠবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত আছি। ’ 

এদিকে রংপুরের প্রধান গরুর হাট লালবাগহাট, বুড়িরহাট ও গঙ্গাচড়ার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশি জাতের গরু বাজারে উঠলেও বেচাকেনা খুব কম। বাইরে থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীরা বেশি ভিড় করছেন এসব হাটে। স্থানীয় সাধারণ ক্রেতারা হাট ঘুরলেও গরুর দাম সাধ্যের বাইরে হওয়ায় তাঁরা কিনতে পারছেন না।

লালবাগহাটে গত রবিবার গরু কিনতে আসা রংপুর শহরতলির দমদমা এলাকার বাসিন্দা নূর হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরির সুবাদে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে বাড়িতে এসে নিজ হাতে গরু কিনে থাকি। এবার গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। এর পরও আশা করছি এখন না হলেও কয়েক দিন পর বেতন-বোনাস পেলে হয়তো পছন্দ অনুযায়ী গরু কিনতে পারব। ’

হাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদকে ঘিরে কেবলই পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। তবে আমদানি কিছুটা কম। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা দেখেশুনে চাহিদা অনুযায়ী কোরবানির পশু ধীরে ধীরে কিনছেন। তবে বাইরের ব্যবসায়ীরা মাঝারি দামের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার গরু বেশি কিনছেন বলে জানায় হাট কর্তৃপক্ষ।

বুড়িরহাটে গত সোমবার গরু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, গত বছর ছোট সাইজের যে গরু ২০ হাজার টাকায় যাওয়া যেত এ বছর ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায়ও সে গরু মিলছে না। বেতগাড়ী হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ভিড় ছিল লক্ষ করার মতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাটের একজন ইজারাদার জানান, বিগত কয়েক বছরে পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু ঢুকে পড়ায় আমদানির পরিমাণ বেশি ছিল। ওই সীমান্তগুলো দিয়ে গরু দেশে ঢোকার পর তিস্তা নদী পেরিয়ে সহজেই রংপুরে চলে আসত।

পশুর হাটগুলোতে দেখা যায়, কোরবানির অন্যতম অন্য পশু খাসির দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা একটু হতাশ। তবু চড়া দামেই অনেকে গরুর পাশাপাশি খাসি কেনার চিন্তা করছেন।


মন্তব্য