kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সব মামলার রায়ের নথি মিলবে জাতীয় আর্কাইভে

নিখিল ভদ্র   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সব মামলার রায়ের নথি মিলবে জাতীয় আর্কাইভে

আগামী প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের রায়ের নথি জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু করে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল রায় দেওয়ার পর বেশির ভাগই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এসব রায়ের মূল কপি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্টিফায়েড কপি জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৬ মে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত যত রায় দিয়েছেন এর মূল কপি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সার্টিফায়েড কপি জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়। কমিটিকে জানানো হয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আর্কাইভ অধিদপ্তর থেকে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল অরুণাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদল সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড রুম এবং স্ট্রংরুম পরিদর্শন করে। সেখানে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের কপি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায়ের কপি ও নথিপত্র দেখে।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিনিধিদল এসব রায়ের মূল কপি জাতীয় আর্কাইভসে সংরক্ষণের বিষয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের বিষয় তুলে ধরে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে। এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী ও সচিবের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানানো হয়। মামলার রায়ের কপির বিষয়টি বিচারাধীন এবং আর্কাইভস আইন অনুযায়ী ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়নি। জাতীয় আর্কাইভস এখনই এসব মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক। এ বিষয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল একমত পোষণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের পরামর্শ দেন। এরপর সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি কালের কণ্ঠকে জানান, এক বছর আগে সংসদীয় কমিটি এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এরপর গত  ৪ মে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও এর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। রায়ের কপি জাতীয় আর্কাইভে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানান, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এ সুপারিশ করা হয়। এক বছরে এ বিষয়ে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে রায়ের মূল কপি সংগ্রহে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে হবে। এর জন্য কিছু সময় দরকার। কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য