kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শরীরে লুকানো অবৈধ পণ্য ধরা পড়বেই

তিন বিমানবন্দরে বসছে হিউম্যান স্ক্যানিং ডিভাইস

আবুল কাশেম   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম আর সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন পথে হিউম্যান স্ক্যানিং ডিভাইস বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বিকিরণমুক্ত ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ দিয়ে পরিচালিত এই ডিভাইস মানবদেহের হলোগ্রাফিক ছবি তৈরিতে সক্ষম।

এটি দিয়ে যাত্রীর শরীরের যেকোনো অংশে যেকোনো কৌশলে আনা অবৈধ পণ্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধসহ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার উদ্বেগ-উত্কণ্ঠাও কেটে যাবে। তবে এ ধরনের ডিভাইস মানবদেহের কোনো গোপনাঙ্গের অবিকল ছবি প্রদর্শন করবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত ১৪ আগস্ট কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পথে ইমাম হোসেন নামের এক যাত্রী পাকস্থলীর ভেতরে ১০০টি পোঁটলায় চার হাজার পিস ইয়াবা বহন করেন। পরে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ওই সব ইয়াবা উদ্ধার করেন। এর আগে বিভিন্ন যাত্রী পায়ুপথে ইয়াবা, স্বর্ণসহ ধরা পড়েছে বিমানবন্দরে। বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরগুলো থেকে তাঁরা স্বর্ণ, মুদ্রা, মাদক, সিগারেটসহ অবৈধ পণ্য উদ্ধার করছেন। একই সঙ্গে বাহক ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করছেন। এসবের কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাহক শরীরের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং শরীরের ভেতরে লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করার সময় তা উদ্ধার করা হয়।

এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মানবদেহে বা ব্যাগের বিভিন্ন স্থানে বিশেষভাবে লুকিয়ে অবৈধ পণ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বিস্ফোরক ও অন্যান্য পণ্য বহন হতে পারে। হিউম্যান স্ক্যানিং ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে এসব অবৈধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধ সম্ভব হবে। এ জন্য হিউম্যান স্ক্যানিং ডিভাইস স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি লিখেছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানব স্ক্যানিং ডিভাইস স্থাপনের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছি। উন্নত বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি স্থাপন করা গেলে কোনো যাত্রী শরীরে বহন করে যেকোনো পণ্য পাচারের চেষ্টা করলে ওই মেশিনে তা ধরা পড়বেই। ’

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহপরাণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে এ ধরনের কোনো ডিভাইস নেই। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ও বহির্গমন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য স্ক্যানার দিয়ে সহায়তা করেছিল। তবে তা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। ফলে বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে কার্গো বিমান পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় বিমানবন্দরগুলোর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য এই স্ক্যানিং ডিভাইস স্থাপন করা জরুরি বলে মনে করছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

ডিভাইস স্থাপন প্রসঙ্গে গত ১৮ আগস্ট রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানকে চিঠি লিখেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান। চিঠিতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য তিন সেট এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য দুটি করে মোট সাত সেট স্ক্যানিং ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। এ বাবদ প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এসব ডিভাইস যাত্রীসাধারণের অগোচরে কোনোরূপ রেডিয়েশন ব্যতিরেকে বহন করা যেকোনো পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ডিভাইসের আরেকটি সুবিধা হলো, ক্ষতিকর পদার্থের সুক্ষ্মভাবে ইমেজ (ছবি) তৈরি করে তা প্রদর্শন করতে সক্ষম। তবে এর দ্বারা কারোর শরীরভিত্তিক কোনো গোপন স্থানের স্বচ্ছ ছবি প্রদর্শন করবে না। ’


মন্তব্য