kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজউকের কোটিপতি পিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃৎপক্ষের (রাজউক) এমএলএসএস মো. মোবারক হোসেনের প্রায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

মোবারক হোসেনের সম্পদের হিসাব জানতে দুদক গতকাল বৃহস্পতিবার স্ত্রীসহ তার বিরুদ্ধে সম্পদের বিবরণী নোটিশ জারি করেছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, মো. মোবারক হোসেন নিজের নামে রাজধানীর উত্তরায় রাজউক থেকে পাওয়া প্লটের ওপর দুই কোটি টাকা মূল্যের সাততলা বাড়ি, তার স্ত্রী শাহিনা পারভীন শাহিনের নামে ডেলপার্ক হাউজিং লিমিটেডের দুই লাখ ২৫ টাকার শেয়ার, উত্তরা রাজউক কমার্শিয়াল মার্কেটে ১৬৬.২১ বর্গফুটের একটি দোকান, ঝিনাইদহে ২২৫.২৮ শতাংশ জমি এবং উত্তরায় তিন কাঠার প্লটের ওপর আটটি টিনশেড বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। আরো জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে দালিলিক মূল্যে মো. মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক কোটি ১৫ লাখ টাকার সঠিক উৎস পাওয়া যায়। বাকি এক কোটি ৩৮ লাখ ৮১ হাজার ৮৯৫ টাকার রেকর্ডভিত্তিক কোনো দালিলিক উৎস দেখাতে পারেনি তারা। যদিও ওই সম্পদের বাজারমূল্য আরো অনেক বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাদের নামে পৃথক দুটি সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করার সুপারিশ করলে কমিশন তা অনুমোদন করে। দুদকের সহকারী উপপরিচালক সরদার মনঞ্জুর আহম্মদ অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন।

দুদক আরো জানায়, অফিসের বাইরে মোবারক নিজেকে পরিচয় দিত রাজউকের কর্মকর্তা বলে। অফিসের ভেতর বিভিন্নজনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নথি গায়েব করে দিত। কোনোটির পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলত। এক জায়গার ফাইল অন্য জায়গায় নিয়ে রেখে দিত। প্ল্যান পাস, সেল পারমিশন নেওয়া,

নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন তদবিরও করত। এভাবে সে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।


মন্তব্য