kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তিন ‘বিদ্যুৎ অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তিন ‘বিদ্যুৎ অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা

তিনটি এলাকাকে কেন্দ্র করে ‘বিদ্যুৎ অঞ্চল’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলো হলো নরসিংদীর ঘোড়াশাল, খুলনার গোয়ালপাড়া ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী।

এসব এলাকায় নতুন ইউনিট স্থাপন ও পুরনো ইউনিট সংস্কার করে ২০৩০ সালের মধ্যে ছয় হাজার ৫৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হবে।

এ লক্ষ্য পূরণের জন্য তিন ধাপে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ-সংক্রান্ত প্রকল্প আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা তেল ও গ্যাসভিত্তিক এ প্রকল্পকে বিলাসী প্রকল্প অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে। তাই গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা যৌক্তিক নয়। আর আমদানি করা জ্বালানি তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উত্পাদনে ব্যয় বেশি। ফলে তিন কেন্দ্র থেকে উত্পাদিত বিদ্যুতের ব্যয় বেড়ে যাবে।

পরিকল্পনা অনুসারে ঘোড়াশালে তিন হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ ইউনিট বসানো হবে। ব্যয় হবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। গোয়ালপাড়ায় বসানো হবে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ ইউনিট। ব্যয় হবে আট হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। বাঘাবাড়ীতে এক হাজার ৪৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ ইউনিট বসানো হবে। ব্যয় হবে ১০ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা।

এ লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড কনসালট্যান্ট অব বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ বিভাগের সংস্থা পাওয়ার সেল মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্ল্যান নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে সভা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এই তিন এলাকায় পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে। পুরনো অদক্ষ ইউনিট বন্ধ করে নতুন ইউনিট বসানো হবে। যে ইউনিটগুলোর সংস্কার সম্ভব সেগুলোকে সংস্কার করে উত্পাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে। তিন এলাকার কোথাও নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রগুলো হবে দ্বৈত জ্বালানির। এখন যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে, তা দিয়ে অনেকখানি চাহিদা মিটবে। বাকিটা এলএনজির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তিনি জানান, সরকার ৪০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। ফলে জ্বালানি খুব বড় সমস্যা হবে না।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ঘোড়াশাল, গোয়ালপাড়া ও বাঘাবাড়ীতে দেড় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে; কিন্তু অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যায় না। ঘোড়াশালের ১০২৮ মেগাওয়াট, গোয়ালপাড়ার ২২৫ মেগাওয়াট ও বাঘাবাড়ীর ৩০০ মেগাওয়াটের ক্ষমতা রয়েছে। তবে পিডিবি বিদ্যুৎ পায় ৭০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট। গোয়ালপাড়ার দুটি এবং বাঘাবাড়ীর একটি ইউনিট তেলচালিত। বাকি সব গ্যাসচালিত।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, গ্যাসের কথা বিবেচনা করলে দ্বৈত জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আত্মহত্যার শামিল। কারণ গ্যাসের ঘাটতির কারণে এখনই বিদ্যুৎ উত্পাদনে সমস্যা হচ্ছে। বড় ধরনের গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া না গেলে এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু আমদানি করা এলএনজি দিয়ে এত বিদ্যুৎ উত্পাদনের পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। কারণ এলএনজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে কেন্দ্রগুলো তেল দিয়ে চালাতে হবে। আর জ্বালানি তেলে পাঁচ-ছয় হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো সময় তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।


মন্তব্য