kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিবাদ নিয়ে ঢাবিতে সেমিনার

কারাগার জিম ফিটনেস সেন্টার ও ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদ বিস্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কারাগার জিম ফিটনেস সেন্টার ও ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদ বিস্তার

উঠতি বয়সের হতাশাগ্রস্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণদের টার্গেট করে সহানুভূতিশীল, সমর্থক, সদস্য ও নেতা হিসেবে প্রশিক্ষিত করে দেশে জঙ্গিবাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা, কারাগার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল, জিম ফিটনেস সেন্টারে পরিচিতির সূত্রে বন্ধুত্ব ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের বিস্তার হচ্ছে।

আত্মীয়তার সূত্র ধরেও পরিবারের সদস্যরা জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে ৯০ শতাংশ জঙ্গিবাদ আত্মীয়তা ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করছে। জঙ্গিবাদ রুখতে পরিবারকে সন্তানের প্রতি খোঁজ এবং মেলামেশা ও সংস্কৃতিচর্চা জোরদার এবং ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অডিটরিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘জঙ্গিবাদের উত্থান ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য তুলে ধরেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক প্রবন্ধে বৈশ্বিক পর্যায়ে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ও বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

আইবিএর পরিচালক এ কে এম সাইফুল মজিদের সভাপতিত্বে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও এমবিএস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিবাদ এখন আলোচিত একটি বিষয় হলেও আমাদের দেশে তেমন কোনো গবেষণা নেই। এতে কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিজের চেষ্টাতেই কাজ চলছে। ’

জঙ্গিবাদ রুখতে কাউন্টার টেররিজম তিন ধাপে কাজ করে উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রথম ধাপে কাউন্টার র‌্যাডিক্যালিজম বা এখানে ইসলামী চিন্তাবিদদের নিয়ে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন। দ্বিতীয় ধাপ কাউন্টার টেররিজম। এখানে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুখোমুখি যুদ্ধ। তৃতীয় ধাপ ডি-র‌্যাডিক্যালাইজেশন। সঠিক তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাওয়া তরুণদের ফিরিয়ে আনা। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কোথায় যাচ্ছে, কী করছে ইত্যাদি বিষয় নজরদারি করার পরামর্শ দিয়ে সংস্কৃতিচর্চা বাড়ানো এবং সন্তানদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন তিনি। সংস্কৃতিচর্চা ও ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা না থাকায় উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান আর দারিদ্র্য ও হতাশায় থাকা তরুণরা জঙ্গিবাদের প্রতি বেশি ঝুঁকছে বলেও জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে চারটি ধাপে একজন তরুণকে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে পর্বে প্রি-র‌্যাডিক্যাল, এখানে একজন তরুণকে চিহ্নিত করে। দ্বিতীয় ধাপে নিজের অস্তিত্ব খোঁজা বা সার্চ ফর সেলফ আইডেনটিটি। এখানে ব্যক্তিকে ইসলামের পথে নিজের অবস্থা সম্পর্কে শিক্ষা ও তৃতীয় পর্যায়ে ইন-ডকটিনেশন। এই ধাপে ওই ব্যক্তিকে জঙ্গিবাদের বিষয়ে জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দিয়ে চতুর্থ ধাপে জিহাদে পাঠায়। প্রশিক্ষণ দিয়ে জিহাদে পাঠানোকে হিজরত আখ্যা দিয়ে মিশনে পাঠায়।

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগসূত্র তুলে ধরে মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে জেএমবি এখন দুটি শাখায় বিভক্ত। একটি নিউ জেএমবি, যারা আইএসকে সমর্থন করে। অন্যটি আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। এই গোষ্ঠী আল-কায়েদাকে অনুসরণ করে। হিযবুত তাহ্রীরের কর্মকাণ্ড দেশে থাকলেও পোস্টার-লিফলেট বিতরণ ছাড়া বড় কোনো ঘটনায় থাকে না। নিউ জেএমবির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য খুবই ধ্বংসাত্মক। মুসলমানদের একটি দেহ মনে করে। এই দেহ কোনো গোষ্ঠী দ্বারা কোনোভাবে আক্রান্ত হলে ওই গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে হামলা চালায়। এই জঙ্গিবাদকে রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।


মন্তব্য