kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবাসিক কর্মশালার নামে আনন্দ ভ্রমণ শিক্ষা কর্মকর্তাদের

শরীফুল আলম সুমন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আবাসিক কর্মশালার নামে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) খরচে আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র সংস্কারের নামে ওই কর্মশালা বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজারে।

সি প্যালেস হোটেলে আয়োজিত কর্মশালায় আমন্ত্রিতরা ভ্রমণ করবেন বিমানে। আর থাকবেন অভিজাত ওই হোটেলেই। আমন্ত্রিত অতিথিদের বেশির ভাগই শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটা মূলত শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রমোদ ভ্রমণ। কক্সবাজারে ঘোরার উদ্দেশ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ২৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহী রহমান এ বিষয়ে একটি চিঠি ইস্যু করেন। চিঠিতে এই কর্মশালার সব খরচ সেসিপ প্রোগ্রামের তহবিল থেকে বহন করার কথা উল্লেখের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মাউশি অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই আমরা এ ধরনের কর্মশালা আয়োজন করছি। রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অডিটরিয়ামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হলে সর্বোচ্চ খরচ হতো এক লাখ টাকা। অথচ এখন প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণকারীর প্রতিজনের পেছনে ব্যয় হবে ৩০ হাজার টাকা করে। আর ওই কর্মশালায় প্রশ্ন প্রণয়নের সঙ্গে খুব বেশি শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অথচ ঢাকায় এই আয়োজন করলে অধিকসংখ্যক শিক্ষক অংশ নিতে পারতেন। ’ এখন মূলত যাঁরা প্রশ্ন করবেন তাঁদের বাইরে রেখেই সংস্কার কর্মশালা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

তবে এসব বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সেসিপ প্রোগ্রাম ম্যানেজার অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটু নিরিবিলি বসতে চাই। ঢাকায় করলে একজন একটু কথা বলেই উঠে যাবেন। বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে না। তাই যাঁরা দুই দিন নিরিবিলি সময় দিতে পারবেন তাঁদেরকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রশ্নপত্রের সংস্কার একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কর্মশালার ওপরই আরো অনেক সেমিনারের আয়োজন করা হবে। তবে কক্সবাজারে ৩০ থেকে ৪০ জনের বেশি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, “২০১০ সাল হতে পর্যায়ক্রমে এসএসসি/দাখিল এবং এইচএসসি/আলিম পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়েছে। আগামী ২০১৭ সালে অনুষ্ঠেয় এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় নির্ধারিত সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালুকরণের মাধ্যমে এ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রাথমিক পর্যায় শেষ হবে। ইতিমধ্যে এ পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রাথমিক জটিলতাগুলো আলোচনায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে এগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু, ফলপ্রসূ ও কার্যকরভাবে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।


মন্তব্য