kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রেস্তোরাঁকর্মী রিয়াদ হত্যা

ঘরোয়ার মালিক ও আরো দুজনের নামে অভিযোগপত্র

গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে

এস এম আজাদ   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঘরোয়ার মালিক ও আরো দুজনের নামে অভিযোগপত্র

রিয়াদ

কিশোর রেস্তোরাঁকর্মী রিয়াদ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। রেস্তোরাঁর মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেল, পাচক খবির উদ্দিন ও কর্মী জসিম উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার ৯ মাস পর সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর মতিঝিলের ঘরোয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক সোহেল ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রিয়াদের চোয়ালের নিচে গুলি করে। এতেই তার মৃত্যু হয়। খুনের ঘটনাটিকে ছিনতাই বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

আরো বলা হয়েছে, সোহেলের পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স নেই। তাঁকে ও তাঁর সহযোগী খবির উদ্দিনকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

তদন্ত-সূত্র জানায়, আসামি খবিরের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায়, সোহেলের বাড়ির কাছে। অভিযোগপত্রে একজন আসামি, ৪১ জন সাক্ষী এবং ১৪টি আলামত বিশ্লেষণের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, একজন আসামি ও ১৫ জন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তারা বলেছে, সোহেলের অস্ত্রের গুলিতেই রিয়াদ মারা যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা ও ওয়ারী থানার পরিদর্শক আলিম হোসেন শিকদার বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। অভিযোগ ও প্রমাণাদি সম্পর্কে সেখানে বলা হয়েছে। সোহেল ও খবিরকে ধরার জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাও বলা হয়েছে। ’

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জসিম উদ্দিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, আসামি আরিফুল ইসলাম সোহেল রিয়াদের চোয়ালের নিচে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে ঢাকা মেডিক্যালে মৃতদেহ পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গুলিতেই রিয়াদের মৃত্যু হয়েছে।

আরো বলা হয়েছে, সোহেলের পিস্তল বা রিভলবারের লাইসেন্স আছে কি না যাচাই করার জন্য শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানায় চিঠি দেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোহেলের বাবার নামে একটি একনলা বন্দুকের লাইসেন্স ছিল। এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে সে। সেটির লাইসেন্স সে নিজের নামে করিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া, তার নামে আর কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। সিআইডিতে পরীক্ষায় (ব্যালিস্টিক) দেখা গেছে, ৩২ বোরের বুলেটে রিয়াদের মৃত্যু হয়েছে। এটি পিস্তলে ব্যবহার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তিনি সোহেলকে ধরার জন্য অভিযান চালিয়েছেন। তিনি যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, এ জন্য বিমানবন্দরে বার্তা দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আদালত তা গ্রহণ করেছে।

সূত্র আরো জানায়, গত বছরের ৬ নভেম্বর জসিম মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, মোবাইল ও দেড় হাজার টাকা চুরির অপবাদে রিয়াদকে গুলি করে হত্যা করেন মালিক আরিফুল ইসলাম সোহেল। পরে তিনি সহযোগী ও কর্মচারীদের শিখিয়ে দেন—তারা যেন বলে, ঘটনাটি ছিনতাইয়ের।

রিয়াদের বড় ভাই রিপন হোসেন বলেন, ‘তারা রিপোর্ট দিছে, কিন্তু এখনো আসামিদের ধরে নাই। আমরা ন্যায়বিচার পাব কি না জানি না। আমরা গরিব মানুষ। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। ’ তিনি জানান, তাঁদের বাবা দীর্ঘদিন আগে মারা গেছেন। মা গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সংসারের প্রয়োজনে তাঁরা দুই ভাই ঢাকায় রেস্টুরেন্টে কাজ নিয়েছিলেন। এখন অসুস্থ মাকে নিয়ে গ্রামে অনেক কষ্টে দিন কাটছে তাঁর। তিনি এখন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে আছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতে রাজধানীর স্বামীবাগে রিয়াদকে (১৬) গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে মতিঝিলে ছিনতাইকারীদের গুলিতে সে নিহত হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।

রিয়াদের ভাই রিপন হোসেন বাদী হয়ে রেস্তোরাঁর মালিক সোহেল, পাচক খবির ও কর্মী জসিমের বিরুদ্ধে ওয়ারী থানায় হত্যা মামলা করেন। ঘরোয়ায় রুটি বানানোর সহকারী হিসেবে কাজ করত রিয়াদ।


মন্তব্য