kalerkantho


চিঠি লিখে কোটি টাকার গাড়ি ফেলে লাপাত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চিঠি লিখে কোটি টাকার গাড়ি ফেলে লাপাত্তা

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল বুধবার সকালে তাঁদের কার্যালয়ে ঢুকতে গিয়ে বেশ হোঁচট খেয়েছেন। রাজধানীর কাকরাইলে আইডিই ভবনে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে ঢোকার প্রধান গেট দুটি, অন্যদিন কোনো গেটেই সকাল বেলায় কোনো গাড়ি থাকে না। কিন্তু গতকাল প্রথম গেটের প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে ছিল টুকটুকে লাল রঙের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি। ভেতরে চালকের আসনে পড়ে ছিল একটি চিঠি। তাতে মালিক লিখেছেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়িটি ফেলে রেখে যাচ্ছেন তিনি।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্রের ভাষ্য মতে, বিলাসবহুল এ গাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের এক গাড়িচালক সকাল সাড়ে ৮টায় অধিদপ্তরে ঢোকার সময় ওই গাড়িতে কোনো নম্বর প্লেট না দেখে থমকে দাঁড়ান। কাছে গিয়ে তিনি দেখেন, গাড়ির দুই পাশের দরজাই খোলা। সামনের দরজা খুলে ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, চালকের আসনে পড়ে আছে ভাঁজ করা একটি সাদা কাগজ। কাগজটি তুলে নিয়ে তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানকে দেন। মহাপরিচালক খুলে দেখেন চিঠিটি তাঁকে উদ্দেশ্য করেই লেখা।

তাতে গাড়ির মালিক লিখেছেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমার দখলে থাকা গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে জমা প্রদান করছি। আমি দুঃখিত যে, গাড়িটি এখন অচল অবস্থায় আছে। তবে আপনারা দেশব্যাপী অবৈধ গাড়ি উদ্ধারে যে অভিযান পরিচালনা করছেন তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। আপনাদের এ ধরনের কাজকে সাধুবাদ জানাই। আমি এ গাড়িটি জমা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই যে, আমার মতো অন্যরাও যেন অনুরূপভাবে অবৈধ গাড়ি জমা প্রদান করেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে আপনাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। ’ চিঠির নিচে লেখা রয়েছে, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সচেতন নাগরিক। ’ চিঠিটি পড়া শেষে মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাড়িটি জব্দের নির্দেশ দেন।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গাড়িটি লাল রঙের এসএলকে ২৩০ মডেলের। চেসিস নং WBD১৭০৪৬৫২F৪১৫৬৪২। ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ২৩০০ সিসি এবং তৈরি করা হয়েছে ২০০২ সালে। গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়েই ছিল।


মন্তব্য