kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার প্রস্তাবে হাইকোর্টের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হাইকোর্টের অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে বহুল আলোচিত রবি আজিয়াটা লিমিটেড (রবি) ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের (এয়ারটেল) একীভূত হওয়ার পথে সব বাধা দূর হলো। সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এই দুই মোবাইল অপারেটর তাদের একীভূত হওয়ার বিষয়ে আদালতের অনুমোদনের জন্য আবেদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার এ রায় দেওয়া হয়। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদের একক বেঞ্চ এ অনুমোদন দিয়েছেন।

রায় অনুযায়ী একীভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এয়ারটেলের ২৫ শতাংশ মালিকানা থাকবে। বাকি ৭৫ শতাংশ রবির। দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেককে সরকারের শর্ত অনুসারে নতুন একীভূত কম্পানিতে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কেউ যদি নতুন কম্পানিতে যেতে না চান তাঁদের ভলান্টারি রিকোয়ারমেন্ট স্কিমের মাধ্যমে কম্পানি থেকে চলে যাওয়ার জন্য সুযোগ করে দিতে বলা হয়েছে। এ বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই একীভূত হওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার (সিসিপিও) মতিউল ইসলাম নওশাদ।

এর আগে গত ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল আলোচিত রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন। এ ক্ষেত্রে একীভূত ফি, তরঙ্গ চার্জ ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রস্তাব অপরিবর্তিত রাখা হয়। গত ২৪ জুলাই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ  একীভূত ফি ১০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে এ প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাঁর অনুমোদনের জন্য পাঠায়। আর অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১৩ জুলাই একীভূত বা মার্জার ফি হিসাবে ১০০ কোটি টাকা এবং স্পেকট্রামের জন্য ৫০৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করে এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এ ক্ষেত্রে রবি যদি এয়ারটেলের পাঁচ মেগাহার্জ ২জি স্পেকট্রাম ফেরত দেয়, তাহলে এই টাকার পরিমাণ আরো কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম ফেরত দিলে রবিকে এয়ারটেলের স্পেকট্রামের জন্য ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে পরিশোধ করতে হবে ২৩৮ কোটি টাকা।

গতকাল হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রবির সিসিপিও মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, ‘মহামান্য উচ্চ আদালত রবি আজিয়াটা লিমিটেড (রবি) ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের (এয়ারটেল) একীভূতকরণের পক্ষে রায় দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ’

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) ও ভারতী এয়ারটেল অব ইন্ডিয়া (ভারতী) বাংলাদেশে তাদের কম্পানিগুলোকে একীভূতকরণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই এ অনুমোদন দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রবির সিসিপিও বলেন, ‘উচ্চ আদালতের এ রায় বাংলাদেশের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। উচ্চ আদালতের দেওয়া নির্দেশনা এবং একীভূতকরণের চুক্তিতে উল্লিখিত আইনসম্মত শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সেই হিসেবে এ বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে আমরা আশা করছি। ’ 

আদালতে রবি ও এয়ারটেলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম, বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই রাকিব।

তানজীব উল আলম বলেন, একীভূত হওয়ার পর নতুন কম্পানির ২৫ শতাংশ মালিকানা এয়ারটেলের কাছে যাবে। হাইকোর্ট মার্জার অনুমোদন করেছেন। মার্জার স্কিম অনুসারে এসব কাজ করতে হবে। এয়ারটেলের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা রয়েছে। হাইকোর্ট এই পাওনা পরিশোধের সাপেক্ষে মার্জার অনুমোদন করেছেন।


মন্তব্য