kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাফল্যের স্বীকৃতি আদায় করেই দেশে ফিরলেন কর্নেল নাজমা

জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সাফল্যের স্বীকৃতি আদায় করেই দেশে ফিরলেন কর্নেল নাজমা

জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি বিশেষ প্রতিনিধি এমবাই বাবাকার সিসির কাছ থেকে জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন কর্নেল ডা. নাজমা বেগম। ছবি : আইএসপিআর

জাতিসংঘের ইতিহাসে একটি মেডিক্যাল কন্টিনজেন্টের প্রথম নারী কমান্ডার হিসেবে কর্নেল ডা. নাজমা বেগম নিজের এবং সেই সঙ্গে দেশের জন্য বিশেষ সম্মান নিয়ে দেশে ফিরেছেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব এবং জাতিসংঘকে সহায়তার জন্য তাঁকে দেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া নাজমা জাতিসংঘ  থেকে ২০১৬ সালের জন্য ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দি ইয়ার’ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

কর্নেল নাজমা গত ২৮ আগস্ট দেশে ফেরেন। আইএসপিআর তাঁর সম্মাননা সম্পর্কে গতকাল জানায়, গত  ১৬ আগস্ট মেডেল প্যারেড অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ম্যাডম আইচাতু মিনদৌদো কর্নেল ডা. নাজমা বেগম এবং তাঁর দলকে বিশেষ সম্মাননা জানান। জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি অনুপস্থিত থাকায় তাঁর পক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি বিশেষ প্রতিনিধি এমবাই বাবাকার সিসি তাঁর  হাতে সম্মাননা তুলে দেন। এ সময় ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল দিদিয়ার এল’অতে ও ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম’বেমবা এম কেইতা  উপস্থিত ছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে আইভরি কোস্ট যান কর্নেল ডা. নাজমা বেগম। সেখানে পাঠানো ৫৬ সদস্যের মেডিক্যাল কন্টিনজেন্টে নারী কমান্ডার হিসেবে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি মেডিক্যাল কন্টিনজেন্টের দলটিকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করব। তারা স্থানীয় লোকজনকে যে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে শুধু তার জন্যই নয়, বরং কর্নেল নাজমা বেগম এর নেতৃত্ব দিয়েছেন সে জন্যও। তিনি জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথম একটি মেডিক্যাল কন্টিনজেন্টের নারী কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করেছেন। কর্নেল নাজমা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্বের জন্য এবং বাংলাদেশ সরকারের সেনাবাহিনীতে নারী-পুরুষের কোনো ভেদাভেদ না করে জাতিসংঘকে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নাজমা বেগমের বেড়ে ওঠা : নাজমা বেগমের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় নীলফামারী থেকে। ১৯৮৫ সালের এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে। সেনাবাহিনীতে আর্মি মেডিক্যাল কোরে কমিশন লাভ করেন ১৯৯৩ সালে। চিকিৎসক হিসেবে নাজমা বেগমের নামের সঙ্গে এমবিবিএস ছাড়াও যুক্ত এমপিএইচ (বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়), সিসিইউ, সি-অল্ট্রি (ইউএসএ), ডিএমএইউডি, পিএইচডি (ইউএসএ) এসব ডিগ্রি।


মন্তব্য