kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানিকগঞ্জে শিক্ষককে মারধর

প্রতিবাদ সভায়ও ছাত্রলীগের বাধা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে শিক্ষক ও ছাত্রীকে পেটানোর প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলেও বাধা দিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে প্রতিবাদ সভা করে তারা।

সভা থেকে শিক্ষক পেটানোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের দৌলতপুর বাঁচামারা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা মো. রফিকুল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গীরা বেদম মারধর করেন। এ সময় এগিয়ে এলে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জিন্নাহর ভাতিজিকেও মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, খণ্ডকালীন শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে সরিয়ে নিজে নিয়োগ পাওয়ার জন্য মো. রফিকুল ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, মিছিল নিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বের হতেই আতোয়ার রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী বাধা দেয়। তাদের হুমকির মুখে বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রতিবাদ সভা করা হয়। এ সময় বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, আবদুল মতিন ও মিজাজুর রহমান। তাঁরা শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় করা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষক ও সহপাঠীকে লাঞ্ছিত করায় বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ। তারাই প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। অথচ সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলও করতে দেওয়া হয়নি। অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা এ নিয়ে সংকটে পড়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এদিকে মারধরের শিকার শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাদী হয়ে গতকাল বুধবার ৯ জনের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা করেছেন।

দৌলতপুর থানার ওসি রফিকুজ্জামান জানান, শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিবাদ মিছিলে বাধাদান ও হুমকির বিষয়ে তিনি নাকি কিছু জানেন না।


মন্তব্য