kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তারাপুর চা বাগান

এবার স্থাপনা বুঝে পেলেন সেবায়েত

সিলেট অফিস   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা আরো ৭১৫টি অবৈধ স্থাপনা সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার সকালে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. মাহবুবুর রহমান সরেজমিন তারাপুর চা বাগানে গিয়ে এসব স্থাপনা সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেন।

তবে এখনো রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজসহ রাগীব আলীর দখলে থাকা স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, এ-সংক্রান্ত দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর রাগীব আলী ছেলেসহ ভারতে পালিয়ে গেছেন।

গতকাল সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া স্থাপনার বেশির ভাগই বাসাবাড়ি। স্থাপনাগুলোর মালিকানা সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও এগুলোর দখল এখনই পাচ্ছেন না সেবায়েত। রাগীব আলীর কাছ থেকে কিনে নেওয়া এসব বাসাবাড়ি এখনো মালিকদের দখলে রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে এসব স্থাপনার দখল উচ্ছেদ করে সেবায়েতকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এর আগে গত ১৫ মে চা বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়া ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।

জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবোত্তর সম্পত্তির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সেবায়েতকে স্থাপনাগুলো সরেজমিনে বুঝিয়ে দেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. মাহবুবুর রহমান।

প্রায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা তারাপুর চা বাগানের পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন ব্যবসায়ী রাগীব আলী। তিনি সেখানে নিজের নামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন এবং ৩৩৭টি প্লট তৈরি করে বিক্রি করে দেন। এসব প্লটে গড়ে উঠেছে বহুতল আবাসন ও বিপণিবিতান।

গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্টের আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ তারাপুর চা বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘তারাপুর চা বাগানের অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে কিছু স্থাপনা আজ আমরা সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে অফিশিয়ালি বুঝিয়ে দিয়েছি। ’


মন্তব্য