kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাইকমিশনার শ্রিংলা বললেন

সন্ত্রাস রোধে ঢাকার নীতিতে পূর্ণ সমর্থন আছে ভারতের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাস রোধে ঢাকার নীতিতে পূর্ণ সমর্থন আছে ভারতের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী নীতির প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যেই বলেছেন যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ একা নয়।

ভারতীয় হাইকমিশনার গতকাল বুধবার ঢাকায় ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে ‘সমসাময়িক ভারত, এর পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা কৌশল : বাংলাদেশে এর প্রভাব’ শীর্ষক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশকে অমূল্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বায়ন আমাদের সবার জীবনের সব কিছুতে প্রভাব ফেলছে এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশও সন্ত্রাসের গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

শ্রিংলা বলেন, সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে আজ বাংলাদেশ ও ভারতের অবস্থান অভিন্ন। দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে চমৎকার সহযোগিতা রয়েছে। অপরাধীদের ধরতে তারা তথ্য বিনিময় করছে।

গত বছরের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অনেক উদ্যোগের সূচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। শ্রিংলা বলেন, মোদির ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও ৭৭টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতিতে মুখ্য বিষয় হলো যোগাযোগ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি অর্থনৈতিক উপ-অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে অর্থনৈতিক সংযোগ। দুই দেশের রেল, সড়ক ও নদীপথে যোগাযোগব্যবস্থা আমাদের ধমনির মতো। তিনি বলেন, গত বছর ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি পর্যটক ভারত সফরে গেছে। সংখ্যার বিচারে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এ বছর ভারতে পর্যটকের শীর্ষ উৎস হতে পারে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে ভারতীয় মিশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিসা দেওয়া হয় বাংলাদেশে ভারতীয় মিশন থেকে। গত বছর এ মিশন থেকে সাত লাখ ৫৩ জনকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। এ বছর এ সংখ্যা আরো বাড়বে। গত জুন মাসে ১২ দিনের ঈদ ভিসা ক্যাম্পে প্রায় ৬০ হাজার আবেদন জমা পড়ে।

ভারতীয় হাইকমিশনার তাঁর বক্তৃতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির উদাহরণ তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ককে সাফল্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরে প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

শ্রিংলা বলেন, নেতারা জনগণের ইচ্ছা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে পারলে যে দুই প্রতিবেশী দেশ সব ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান ও পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে সে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু। আরো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে এ অঞ্চলকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।


মন্তব্য