kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাতিয়ার সাত জেলের মরদেহ ভারতে উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঝড়ের কবলে পড়ে ১৬ দিন আগে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ নোয়াখালীর হাতিয়ার সাত জেলের মরদেহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার স্থানীয় জেলেরা সাগরে মাছ ধরার সময় ডুবন্ত অবস্থায় হাতিয়ার এই নৌকাটির খোঁজ পায়।

তারা নৌকা থেকে এই সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে নিখোঁজ থাকা বাকি ১০ জেলে সম্পর্কে এখনো কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গত ১৪ আগস্ট হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের বিরিবিরি গ্রামের নবীর উদ্দিন মাঝির মালিকানাধীন এফবি নূর আলম নামের মাছ ধরার নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়ে ১৭ জন জেলেসহ নিখোঁজ হয়।

নিখোঁজ জেলেরা হলো হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ এলাকার জাফর উল্যাহ, রাশেদ, তাজুল ইসলাম, দিদার, মিরাজ, স্বপন, ফরহাদ, জহির, মনির, মিরাজ, মেহেরাজ, সোহেল, সালাউদ্দিন, নোমান ও কেরিং চর এলাকার সিরাজ, নিশান ও এনায়েত।

নিখোঁজ সাতজনের লাশ উদ্ধারের তথ্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মত্স্যজীবী সমিতি, হাতিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি জামাল উদ্দিন মাঝি। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেননি। জামাল উদ্দিন জানান, ওই দিন সঙ্গে সঙ্গে সাগরে যাওয়া অন্য নৌকাগুলো ফিরে এলেও এফবি নূর আলম নৌকাটির খোঁজ না পেয়ে গত ২১ আগস্ট এর মালিক নবীর উদ্দিন হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জামাল আরো জানান, গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাথর প্রতিমা থানা এলাকার জেলেরা মাছ ধরার সময় ডুবন্ত অবস্থায় এফবি নূর আলম নৌকাটি খুঁজে পায়। তারা বোটটি তীরে এনে ভেতর থেকে সাতজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। নৌকাটিতে এফ নম্বর ২৪৭০ দেখে সেখানকার জেলেরা হাতিয়া ফিশিং বোট মালিক সমিতিকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করে। তাদের পাঠানো ছবি দেখে হাতিয়া ফিশিং বোট মালিক সমিতি নৌকাটি এফবি নূর আলম বলে শনাক্ত করে।

এরপর মোবাইল ফোনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাথর প্রতিমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঈনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, গলিত মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাহাজমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুম বিল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, বিরিবিরি গ্রামের নবীর উদ্দিনের মাছ ধরার নৌকার সাত জেলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় উদ্ধার হয়েছে বলে সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি গোলাম ফারুক জানান, জাহাজমারা ফিশিং বোট মালিক সমিতির কাছ থেকে তিনি এই খবর পেয়েছেন। এ ব্যাপারে আরো খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য