kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে শিবিরের তিন শীর্ষ ক্যাডারের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চট্টগ্রামে শিবিরের তিন শীর্ষ ক্যাডারের কারাদণ্ড

একে-৪৭ রাইফেল, গুলিসহ গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রশিবিরের তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীর প্রত্যেককে ১৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বিলকিস আক্তার এই রায় দেন।

দণ্ডিত তিনজনই চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তারা হলো নুরুন্নবী ওরফে ম্যাক্সন, মো. সরোয়ার ওরফে বাবলা, মো. মানিক ওরফে গিট্টু মানিক। তাদের মধ্যে ম্যাক্সন ও সরোয়ার রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিল। মানিক জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে পলাতক।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি জানান, মানিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিংবা আত্মসমর্পণের পর থেকেই রায় কার্যকর হবে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৪ জুলাই রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গার বিল এলাকার বিশ্বরোড চৌরাস্তা এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী ম্যাক্সন ও সরোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাদের চট্টগ্রামে আনার পর তাদের সহযোগী মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওয়াজেদিয়া এলাকার একটি পুকুর থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে আছে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক, একটি ওয়ান শ্যুটার গান ও একটি হালকা বন্দুক (এলজি)। এ ছাড়া দুটি ম্যাগাজিন ও ২৭টি এ কে-৪৭ রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় তৎকালীন ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক জহির হোসেন ওই বছরের ৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

২০১১ সালে গ্রেপ্তারের পর ম্যাক্সন ও সারোয়ার ওই সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিল, তারা শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের পক্ষে এলাকায় চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলে জড়িত। ২০০০ সালে বহদ্দারহাট এলাকায় ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে ব্রাশফায়ার করে হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি সাজ্জাদ বিদেশ পালিয়ে গেছে। এরপর সরোয়ার ও ম্যাক্সন চট্টগ্রামে সাজ্জাদের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে। সাজ্জাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণও যায় তাদের হাতে।


মন্তব্য