kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বরিশাল বিভাগে জরুরি প্রসূতিসেবা

১১ কেন্দ্রের ৮টিতে হয় না অস্ত্রোপচার

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১১ কেন্দ্রের ৮টিতে হয় না অস্ত্রোপচার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে জরুরি প্রসূতি সেবাভুক্ত (ইওসি) কেন্দ্র রয়েছে। প্রসূতিদের জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য শল্যবিদ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সুসজ্জিত অস্ত্রোপচার কক্ষ, পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা, বিদ্যুৎ সরবারহের জন্য অত্যাধুনিক জেনারেটর—সব কিছুই আছে।

কিন্তু নেই অস্ত্রোপচারের জন্য প্রসূতিকে অজ্ঞান করার অবেদনবিদ। এ কারণে এক বছর ধরে এখানে প্রসূতির জরুরি অস্ত্রোপচার সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

২০১৩ সালের জুন মাসে বদলি হয়ে গেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবেদনবিদ ডা. মাসুদ হাসান। এর পর থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধার করা চিকিৎসক দিয়ে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের কাজ চালানো হয়েছে। ওই বছরের আগস্ট মাসে হাসপাতালের শল্যবিদ ডা. শায়লা বেগম ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বদলি হয়ে যান। সেই থেকে এ হাসপাতালের প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই চিত্র শুধু বানারীপাড়া ও বাউফল উপজেলার নয়। অবেদনবিদ না থাকায় বরিশাল বিভাগে ১১টি জরুরি প্রসূতি সেবাভুক্ত কেন্দ্র বা ইওসির আটটিরই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কয়েক বছর ধরে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, বরিশাল বিভাগের ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ৪০টি মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—তিনটি হাসপাতাল ছাড়া ৩৭টিতে অবেদনবিদ নেই। এর মধ্যে আটটি জরুরি প্রসূতি সেবাভুক্ত কেন্দ্র রয়েছে। যে তিনটিতে অবেদনবিদ আছে সেগুলোতে জরুরি প্রসূতি সেবাভুক্ত কেন্দ্র রয়েছে। ডা. বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘ইওসি আছে এমন হাসপাতালগুলোর অবেদনবিদের শূন্য কোটা পূরণের জন্য প্রতি মাসেই চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। তবে ৩৪তম বিসিএস পাস করা চিকিৎসকদের অবেদন বিষয়ে ছয় মাসের ডিপ্লোমা করানো হচ্ছে। কোর্স শেষে সংকট কিছুটা কাটবে বলে আশা রাখি। ’

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রসূতি মা ও শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে ২০০৪ সালে দেশের জনবহুল ও দুর্গম এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের জন্য জরুরি প্রসূতি সেবাভুক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রগুলো স্থাপনের পর থেকে ওই সব হাসপাতালে স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ, শল্যবিদ ও অবেদনবিদদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রসূতিদের সেবাদানের জন্য পর্যায়ক্রমে সেবিকাদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য গ্রহণ করা এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক, সেবিকা, দাই, অস্ত্রোপচার কক্ষের আধুনিক সরঞ্জাম সব কিছু থাকলেও বেশির ভাগ হাসপাতালে নেই অবেদনবিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইওসি স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এই কেন্দ্রের কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি আটটি কেন্দ্রে অবেদনবিদ না থাকায় এক থেকে চার বছর পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে প্রসূতির অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই আটটি কেন্দ্র হলো পটুয়াখালীর বাউফল, ভোলার চরফ্যাশন, লালমোহন ও মনপুরা, বরগুনার বেতাগী ও পাথরঘাটা, ঝালকাঠির নলছিটি ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কেন্দ্র।

বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নবকুমার সমাদ্দার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পর্যন্ত যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। অবেদনবিদ সংকট থাকায় আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুই দিন একবেলা করে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে যেন একজন অবেদনবিদকে দেওয়া হয়। সেটা সম্ভব না হলে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে যেন চুক্তিভিত্তিক একজনকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের এসব প্রস্তাবের কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি। ’


মন্তব্য