kalerkantho


অভিবাসনবিষয়ক সংলাপে তথ্য

সৌদিতে ৬০ শতাংশ গৃহকর্মী যৌন নির্যাতনের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মে, ২০১৬ ০০:০০



সৌদিতে ৬০ শতাংশ গৃহকর্মী যৌন নির্যাতনের শিকার

সৌদি আরবে কর্মরত নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ শারীরিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গৃহকর্মের জন্য নেওয়া হলেও তাদের দুই তিন মাস কোনো কাজ দেওয়া হয় না। বন্দি রেখে চালানো হয় অমানবিক যৌন নির্যাতন, যার কারণে বেশির ভাগ শ্রমিক দুই-তিন মাসের মধ্যে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীদের পাশে দূতাবাস কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো না দাঁড়ানোয় তাদের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অভিবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা’ বিষয়ক সংলাপে গতকাল শনিবার এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন এ সংলাপের আয়োজন করে।

সংলাপে সৌদি আরবফেরত এক গৃহকর্মীর বোন ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার বোন দুই মাস আগে দেশে ফিরে এসেছে। তাকে যে কাজের জন্য নেওয়া হয়েছে, সে কাজ দেওয়া হয়নি। অন্য কোনো কাজও দেওয়া হয়নি। একটি কক্ষে বন্দি রেখে তিন মাস ধরে ‘খারাপ কাজ’ করতে বাধ্য করেছে। এরপর যখন তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে, তখন বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আজও সে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।”

সংলাপে জানানো হয়, শুধু নারী গৃহকর্মী নয়, পুরুষ কর্মীরাও সৌদি আরবে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেন না। এ কারণে দিনের পর দিন জেলে আটকা রয়েছে শ্রমিকরা। সৌদিফেরত পটুয়াখালীর সুবিদখালী ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সেখানে যে কাজের কথা বলে নেওয়া হয়, পরে তা দেয় না। বেতনও কমে যায় প্রায় অর্ধেকের মতো। প্রতিবাদ করলে দুপুরের খাবার দেয় না। রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অমানবিক নির্যাতনের কারণে অনেক শ্রমিক পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ধরা পড়লে দূতাবাসগুলো তাদের কোনো খোঁজখবর নেয় না।’

সৌদিফেরত আরেক শ্রমিক সিলেটের গোয়াইনঘাটের মো. ওসমান বলেন, ‘ইন্ডিয়ানরা দোষ করে আর দায় চাপানো হয় বাঙালিদের ওপর। আমরা কোনো প্রতিবাদ করতে পারি না। ইন্ডিয়ানদের পাশে সব সময় তাদের দূতাবাস থাকে। আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’

দেশীয় চিকিৎসকস্বল্পতার কারণে সৌদিতে অনেক বাংলাদেশি ভুল ওষুধ খেয়ে মারা যায় বলে জানান ওয়ারভি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘ভাষাগত জটিলতার কারণে অনেকে ভুল ওষুধ খেয়ে মারা যায়। আর তখন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ওই মানুষটি কিভাবে মারা গেল তার খোঁজ কেউ রাখে না।’

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট সেলের প্রধান যুগ্ম সচিব মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘সৌদি আরবে গৃহকর্মীরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, এটা আমি পুরোপুরিভাবে স্বীকার করব না। তবে কিছু ঘটনা তো ঘটছেই, সেটা সত্য। ঢাকায় গ্রাম থেকে আসা মেয়েরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তবে বিদেশে যেসব নারী কর্মী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, আমাদের দূতাবাস তাদের কোনো সহযোগিতা করে না—এ অভিযোগ সত্য। দূতাবাস যেমন নারী কর্মীদের খোঁজ রাখে না, তেমনি এ দেশ থেকে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিও সেখানে থাকে না। যার কারণে নারী গৃহকর্মীরা সেখানে নিরাপত্তাহীন।’

সংলাপে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক এ আর চৌধুরী রিপন। অনুষ্ঠানে শ্রম অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ অভিবাসী শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দা রোযানা রশীদ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডান চার্চ এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিনা হক আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওশির ভাইস চেয়ারপারসন ড. এস এম মোর্শেদ।


মন্তব্য