kalerkantho


পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়ন

ফাইল গোটানোর পর একজনকে গ্রেপ্তার—এটুকুই অগ্রগতি

এস এম আজাদ   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ফাইল গোটানোর পর একজনকে গ্রেপ্তার—এটুকুই অগ্রগতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় গত পহেলা বৈশাখে নারী নিপীড়নের ঘটনায় জড়িত চক্রটিকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রথম দফা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আকস্মিকভাবে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পর্যন্ত অগ্রগতি এটুকুই। এরপর মামলা পুনঃ তদন্তের আদেশ দেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট মামলার পুনঃ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। আগে তদন্তের দায়িত্বে ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তারা চক্রের কাউকে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা যায়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। সূত্র জানায়, এটা তাদের কৌশল ছিল।

 

আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে তদন্ত বন্ধ করে দেয় ডিবি। ৯ মাস পর নাটকীয়ভাবে কামাল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি আবার চালু করার নির্দেশ দেন। এখন পর্যন্ত আর কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কামাল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেননি। তবে তিনি যে ঘটনাস্থলে ছিলেন তা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। ওই সময় তাঁর পরনে থাকা পাঞ্জাবিটি জব্দ করেছে পিবিআই।

এদিকে এক বছরেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ২০০০ সালে বাঁধনকে নিপীড়নের ঘটনায়ও পুলিশ একই রকম কথা বলেছে। পরে ছবি প্রকাশিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবার ছবি আছে, সাক্ষী আছে, এর পরও পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট দিল। পুলিশের মানমর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই অপরাধীদের ধরা উচিত। তাদের তিন-চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ঘটনা ঘটেছে, ফলে এ বিষয়ক দায় তাদের নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এ জাতীয় ঘটনার সুরাহা না হলে জাতীয় উৎসব-আয়োজনে বা অন্য কোনো গণসমাবেশে নারীদের দেখা যাবে না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে এখনো অপরাধীরা ধরা পড়েনি। ঘটনার পর কয়েকজনকে ছাত্ররা আটক করেছিল; তখন তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো কেন? এ ঘটনায় পুলিশের ইমেজ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমি আশা করব, এবার বা আর কখনোই সে রকম ঘটনা ঘটবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা। ’

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কামাল আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলেও আমাদের কাছে ঘটনায় শামিল হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় তাঁর পরনে যে পাঞ্জাবি ছিল সেটি আমরা জব্দ করেছি। তাঁর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। ’ তদন্তে অগ্রগতির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটির তদন্ত করছি। যাদের ছবি পাওয়া গেছে তাদের সবাইকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ’

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের উৎসবের দিন সন্ধ্যায় টিএসসি এলাকায় ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ ঘটনাটি এড়িয়ে যায়। পরে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সংগঠনের দাবির মুখে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা দায়েরের ও তদন্তের উদ্যোগ নেয় তারা। ১৫ এপ্রিল শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়; তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।

গত ২৭ জানুয়ারি নাটকীয়ভাবে কামাল হোসেনকে চকবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে মামলার পুনঃ তদন্তের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পুনঃ তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার।

কামালের স্বজনরা দাবি করেছেন, ওই দিন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে টিএসসি এলাকায় যান। তিনি কোনো ধরনের নিপীড়নে অংশ নেননি।

কামালের স্ত্রী সাহিদা বেগম দাবি করেন, গত বছর পহেলা বৈশাখে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী বর্ষবরণ উৎসবে যোগ দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়েছিলেন। সঙ্গে তাঁদের দুই সন্তানও ছিল। হট্টগোলের মধ্যে তাঁরা আলাদা হয়ে পড়েন। পরে আবার একসঙ্গে বাসায় ফেরেন।


মন্তব্য