kalerkantho


চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা খুন

দ্বিতীয়বার আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত হয় সোহেলের

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয়বার আঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত হয় সোহেলের

নিহত নাসিম আহমেদ সোহেল

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা নাসিম আহমেদ সোহেলকে দুই দফা পিটিয়ে ও কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। প্রথম দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর সহপাঠীরা যখন সোহেলকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল তখন আবার তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটুনি এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।

দ্বিতীয় দফার আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই সোহেলের মৃত্যু হয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চকবাজার থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।

সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামিকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল শনিবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিদের আদালতে পাঠানোর সময় মামলার বিষয়ে যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন, মূলত ওই প্রতিবেদনেই দ্বিতীয় দফায় নিচতলার সিঁড়ির কাছে সোহেলকে আবার আঘাত করার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে সোহেল হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেছেন।

চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় নিচতলায় কোপানো না হলে হয়তো সোহেল বেঁচে যেত। দ্বিতীয় দফায় কোপানোই সোহেলের মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে প্রথম দফা মারধরের দৃশ্য পাওয়া গেলেও সিঁড়ির কাছে মারধরের ভিডিও চিত্র পাওয়া যায়নি। ’

তবে হত্যাকাণ্ডের পাঁচ আসামির মধ্যে কেউ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। তাঁদের চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরীন আক্তার কাকনের আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত আসামিদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। পুলিশ নতুনভাবে আসামিদের রিমান্ডের আবেদনও জানায়নি।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন করে রিমান্ড আবেদন ছিল না। আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ’

এই পাঁচ আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম আশরাফ ওরফে সাদি (২৩), ওয়াহিদুজ্জামান নিশান (২১), মো. জিয়াউল হায়দার চৌধুরী (২২), এস এম গোলাম মোস্তফা (২২) ও তামিম উল আলম তামিম (২৪)। এই পাঁচজনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহত সোহেলের বাবা আবু তাহের।

চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামিদের পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানানো হবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘মূল আসামি সোহানকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ’

উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অতিথি করা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে সোহেল নিহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দামপাড়া ক্যাম্পাস ভবনের তৃতীয় তলায় এই ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। এর ফুটেজ দেখে পুলিশ মূল খুনি হিসেবে মো. ইব্রাহিম সোহানকে (২৩) শনাক্ত করে। এ ছাড়া ফুটেজের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় এই পাঁচজনকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অল্পসংখক সক্রিয় কর্মী আছে। তারা সেখানে দুই ভাগে বিভক্ত। বিবিএর ২৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান করতে রাজি ছিল না সোহান গ্রুপ। আর অনুষ্ঠান করার পক্ষে ছিল বিবিএ অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সংগঠনের মহানগর শাখার সদস্য সোহেলের অনুসারীরা। দুই পক্ষ এ নিয়ে একাধিকবার হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া বিদায় অনুষ্ঠানে সোহেল পক্ষ মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরকে প্রধান অতিথি করতে চেয়েছিল। এতে রাজি হয়নি সোহানসহ তাঁর পক্ষের শিক্ষার্থীরা। তারা প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক মেয়র নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেছিল। সোহানদের এই প্রস্তাব সোহেলরা মেনে নেয়নি। এ কারণেই ‘ইগো প্রবলেম’ থেকেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিদায় অনুষ্ঠানের সঙ্গে চাঁদা সংগ্রহ ও বাণিজ্যিক কিছু কারণের বিষয়েও তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মন্তব্য