kalerkantho


আর বাধা নেই স্বপ্নপূরণে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আর বাধা নেই স্বপ্নপূরণে

রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে গতকাল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মধ্যে চেক বিতরণ করেন। -ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বপ্না পারভীনের বাড়ি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে। দিনমজুর বাবার ঘরে চার বোনের মধ্যে স্বপ্না তৃতীয়।

অর্থাভাবে বড় বোন পড়ালেখা করতে পারেননি। এমনকি বাবা কাজ না পেলে সেদিন বাড়িতে উনুন জ্বলে না। সেই পরিবারের মেয়ে স্বপ্না আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়ছেন সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রথম বর্ষে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়াটা শৈশব থেকে স্বপ্ন ছিল স্বপ্নার। সেই স্বপ্নপূরণে আর বাধা নেই। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরে ইনডোর স্টেডিয়ামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন স্বপ্না। এই কৃতী এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার পর প্রথম এই বৃত্তি পান।

এরপর এইচএসসিতেও জিপিএ ৫ পাওয়ার পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণে দ্বিতীয় বারের মতো তিনি এই বৃত্তি পেলেন। অভিব্যক্তি প্রকাশের শেষ পর্যায়ে এই মেধাবী বলেন, ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এই বৃত্তিপ্রাপ্তি আমাদের পুরো পরিবারের কাছে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। ’

ফারজানা আহমেদ পড়ছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষে। এই মেধাবীও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তি পেয়েছেন। ফারজানা বললেন, ‘বাবা মুদি দোকানের সামান্য আয়ের কর্মচারী। বড় বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিদারুণ দারিদ্র্যের কারণে এসএসসি পাসের পর যখন আমার পড়ালেখা বন্ধের উপক্রম তখন আমি এই বৃত্তি পাই। এরপর জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করলাম ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হলাম। সেই একই কারণে এবারও মনে হলো অথৈ সাগরে পড়লাম। আবারও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। প্রকৃত বন্ধুর মতোই তারা আমার পাশে এসে দাঁড়াল। তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। তবে আমি চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে কিছুটা হলেও এর প্রতিদান দিতে চাই। ’

গতকাল ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অধ্যয়নরত দুই হাজার ১৫৩ জন মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। এদের ৯০ শতাংশই গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থী। আর ৫০ শতাংশই ছাত্রী। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৫৬৩ জন শিক্ষার্থী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তির সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ে পূর্ণ শিক্ষাবর্ষের জন্য বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে পাচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে। এ ছাড়া বার্ষিক অনুদান হিসেবে পাবে পাঠ্য উপকরণের জন্য বছরে পাঁচ হাজার টাকা ও পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য এক হাজার টাকা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘যাঁরাই দেশের উন্নয়ন চান তাঁদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হতে হবে। আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। এর থেকে উত্তরণে প্রথমেই প্রয়োজন শিক্ষা। আমাদের দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠীর বড়ই অভাব। তাই আগামী বাজেটে দক্ষতার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। ’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কৃষি খাতে বেশ ভালো উন্নয়ন হয়েছে। এখন নজর দিতে হবে শিল্পায়নে। প্রতিবছর ১৮ লাখ শ্রমিক আমাদের কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে পাঁচ লাখ বিদেশে চলে যায়। বাকি ১৩ লাখের জন্য আমরা তেমন কিছুই করতে পারছি না। এই খাতে বিনিয়োগ ও কর্ম সৃষ্টি করতে হবে। ’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমান সরকার দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাকে অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ তৈরি করা সরকারের একার পক্ষে দুরূহ ব্যাপার। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। ’


মন্তব্য