kalerkantho


আ. লীগের সংঘর্ষ, এমপির গাড়ি ভাঙচুর, আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আ. লীগের সংঘর্ষ, এমপির গাড়ি ভাঙচুর, আহত ৩০

রাজশাহীর জয় নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের সময় বর্ধিত সভায় আ. লীগের দুগ্রুপের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।-ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ডাকা বর্ধিত সভায় গতকাল শনিবার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রাবার বুলেট ছুড়তে হয়েছে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ চার-পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই করতে রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

বিকেল ৪টার দিকে সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর মঞ্চ দখল করে নেয় সংসদ সদস্যের অনুসারী নেতাকর্মীরা। দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে তারা মঞ্চ দখল করার পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদের অনুসারীরা পাল্টা মঞ্চ দখলের চেষ্টা করে।

এ সময় মোজাম্মেল হকের লোকজন মজিদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

এরই মধ্যে সংসদ সদস্য দারা ও উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গাড়িবহর নিয়ে সভাস্থলে গেলে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করে মজিদের লোকজন। তারা সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাঙচুর করে। সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা তাঁদের ধাওয়া করে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংঘর্ষের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংসদ সদস্য দারার অনুসারীরা এলাকা ত্যাগ করে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্যের অনুসারীরা জয়নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করছে ওই ইউনিয়নের সভাপতি মকছেদ আলীকে। অন্যদিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদার ও তাঁর সমর্থকরা অন্য নেতা ফিরোজ আহমেদকে প্রার্থী করতে চায়। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য ডাকা বর্ধিত সভায় দুই পক্ষের লোকজন জড়ো করা নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা চলছিল।

ঘটনার পরপর সংসদ সদস্য দারার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে দাবি করেন, হামলায় তাঁদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ঘটনার পর রসুলপুর ও দাওকান্দি গ্রামের নেতাকর্মীদের বাড়িতেও মজিদের লোকজন হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বর্ধিত সভা করার জন্য জয়নগরের রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলাম। তখন মজিদের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। ’

তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদার অভিযোগ করে বলেন, সংসদ সদস্য দারার অনুসারীরাই তাঁর এবং তাঁর নেতাকর্মীদের ওপর আগে হামলা চালায়। এতে তিনিসহ তাঁর পক্ষের অন্তত ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, ‘মজিদ সরদারকে একজন সন্ত্রাসী মানুষ হিসেবেই দুর্গাপুরের মানুষ জানেন। জেলা আওয়ামী লীগের পদে থেকে তিনি যে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেন তা মোটেই কাম্য নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য