kalerkantho


বরেন্দ্র জাদুঘর

খোয়া যাওয়া প্রত্নবস্তু এখনো উদ্ধার হয়নি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত দেশের একমাত্র শতবর্ষী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৮৫ প্রত্নবস্তুসহ প্রায় তিন হাজার দুর্লভ বস্তু এখনো উদ্ধার হয়নি। এ নিয়ে কোনো তত্পরতাও দেখা যাচ্ছে না।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫৭তম সিন্ডিকেট সভায় বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর থেকে প্রাচীন মূর্তি,  টেরাকোটাসহ বিভিন্ন প্রত্নবস্তু, প্রকাশনা ও মুদ্রা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যরা সরেজমিনে গিয়ে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর পরিদর্শন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলেও তখন জানানো হয়। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটেই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। তবে এ নিয়ে এখনো সিন্ডিকেটে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ’

জাদুঘর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সাল থেকে পরবর্তী প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০০৪ সাল পর্যন্ত এ জাদুঘর থেকে প্রায় ৮৫টি প্রত্নসামগ্রী চুরি হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, উমা মহেশ্বর বা শিব-পার্বতী যুগল মূর্তি, একাধিক বিষ্ণুমূর্তি, সূর্যমূর্তি, পেটমোটা  বুদ্ধমূর্তি জম্ভালা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কালীর একটি রূপ চণ্ডীমূর্তি, বৌদ্ধদের প্যাগোডা, ব্রহ্মামূর্তি ও বুদ্ধমূর্তি, দুর্লভ টেরাকোটা, কারুকার্যখচিত ইট ও অন্যান্য প্রত্নবস্তু।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, জাদুঘরে মুদ্রা ছাড়া নিবন্ধিত নানা ধরনের চার হাজার ৪০৭টি প্রত্নবস্তুর মধ্যে ১৮৫টি আর পাওয়া যাচ্ছে না।

পাঁচ হাজার ৯৭১টি নিবন্ধিত মুদ্রার মধ্যে ৩৩টি এবং ১৩ হাজার ৯৩৩টি গ্রন্থের মধ্যে ৮৫টি পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৫৭৬টি প্রকাশনার (পুস্তক, পুস্তিকা, গ্রন্থ, জার্নাল ইত্যাদি) মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না তিন হাজার ৫২টি।

জাদুঘরের একজন পরিচালক দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রত্নসম্পদের হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ মজুদ প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পর প্রত্নবস্তু খোয়া যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

বর্তমান পরিচালক সুলতান আহমদ বলেন, ‘১৯৮৬ থেকে ২০০৪ সাল বা তারও আগে যেকোনো সময় এ চুরি যাওয়ার বিষয়টি ঘটেছে। কিন্তু দুই পরিচালক সাইফুদ্দিন চৌধুরী ও মুখলেছুর রহমান জাদুঘরটির প্রত্নসামগ্রী খোয়া যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। ’


মন্তব্য