kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


উদ্যোগ

ব্রহ্মপুত্রের চরে বিষমুক্ত সবজি আবাদ

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ব্রহ্মপুত্রের চরে বিষমুক্ত সবজি আবাদ

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে বিষমুক্ত সবজি চাষ প্রকল্পে এক্স-ক্যাডেটরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চারদিকে বিষে ভরা শাকসবজি। খাওয়া নিয়ে ভয় সবার মনেই। কিন্তু ভয় কাটানোর উদ্যোগ কই? তবে কেউ না কেউ এগিয়ে আসে। উদাহরণ সৃষ্টি করে। বিষমুক্ত সবজি চাষের ব্যাপারে তেমনই এক অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে। ময়মনসিংহের এক্স (সাবেক) ক্যাডেট (বিএনসিসি) অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে শুরু হয়েছে বিষমুক্ত সবজি চাষ প্রকল্প।

এক্স-ক্যাডেট (বিএনসিসি) অ্যাসোসিয়েশনের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালের ২০ জুলাই। ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিএনসিসির সাবেক ক্যাডেটরা এতে যুক্ত হন। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫০। গত বছরের অক্টোবর মাসে সংগঠনটি বিষমুক্ত সবজি চাষের ব্যতিক্রমী কাজটি শুরু করেছে।

বিষমুক্ত সবজি চাষের প্রকল্প শুরুর সময় স্থান নির্বাচন করা হয় ময়মনসিংহ শহরের পার্কসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের অন্য পাড়ে। সংগঠনের সদস্যরা সেখানে প্রায় দুই একর জমি লিজ নেন তিন বছরের জন্য। এ জমিতে আবাদ করা হয় লালশাক, পালং শাকসহ বেশকিছু শাকসবজি। আবাদে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার বাদ দেওয়া হচ্ছে। এখনো এ আবাদের বাণিজ্যিক সাফল্য যাচাই করা হচ্ছে। আশানুরূপ সাড়া মিললে বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে আবাদ শুরু করা হবে।

বর্তমানে এখানে আবাদ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া, পাটশাক, লাউ, ডাঁটা, মিষ্টি মরিচ, ঢেঁড়শ ইত্যাদি শাকসবজি। এসব শাকসবজি আবাদ শেষে তা সব সদস্যের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।

প্রকল্পটি দেখভাল করেন স্থানীয় একজন কৃষিমজুর। আর সময় পেলেই সাবেক ক্যাডেটরা প্রকল্প এলাকায় যান নিয়মিত তদারকি করতে। অনেক সময় তাঁরা নিজেরাই জমির পরিচর্যা করেন। জমি থেকে শাকসবজি তুলে পরিষ্কার করে শহরে নিয়ে আসেন।

সংগঠনের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘নানাবিধ সামাজিক কাজের পাশাপাশি বিষমুক্ত সবজি চাষের এ প্রকল্প আমরা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। কারণ সাধারণ মানুষ আমাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হলে তা হবে বড় একটা সাফল্য। আশার কথা, ইতিমধ্যে অনেকেই প্রকল্পটি সম্পর্কে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ’

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওবায়েদ হোসেন বলেন, ‘কোনো ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কাজ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখন আমাদের উদ্দেশ্য, বিষমুক্ত শাকসবজি চাষের পক্ষে সারা দেশে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি ক্রেতাদের সচেতন ও আগ্রহী করে তোলা। ’


মন্তব্য