kalerkantho


সার্থক নাম ‘বউবাজার’

ফখরে আলম, যশোর   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



সার্থক নাম ‘বউবাজার’

বউবাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই মহিলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কাঁচাবাজারে যাতায়াত নেই এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। স্বভাবতই এর চিত্র সম্পর্কেও আমাদের রয়েছে সম্যক ধারণা। একটা সময় ছিল যখন কাঁচাবাজারে যাতায়াত ছিল কেবলই পুরুষের। সময় পাল্টেছে। এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দৈনন্দিন কেনাকাটা সারতে কাঁচাবাজারে ভিড় করছেন। তবে বিক্রেতাদের অধিকাংশই আজও পুরুষ। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ‘বউবাজার’। এখানে নারীই ক্রেতা, নারীই বিক্রেতা।

যশোর শহরের এই ‘বউবাজার’ প্রতিদিন সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমজমাট হয়ে ওঠে। নারীর আধিক্যের কারণেই এই বাজারের এমন নামকরণ। প্রতিদিন কয়েক হাজার নারী এখানে কেনাকাটার জন্য ভিড় জমান। বিক্রেতারাও সবাই নারী। কেউ সবজি বিক্রি করেন। কেউ মুদি সামগ্রী বিক্রি করেন। কেউ মাছ বিক্রি করেন। মহিলাদের কাছে বউবাজার নিরাপদ। আর গৃহবধূরাও এই বাজারে সংসারের সব জিনিস কিনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সব মিলিয়ে বউবাজার হয়ে উঠেছে ‘নারীস্থান’।

সরেজমিনে যশোর শহরের পূর্বাঞ্চল সিটি কলেজপাড়া বউবাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজার জমে উঠেছে। মহিলা বিক্রেতারা জিনিসপত্রের দর হাঁকছেন। আর নানা বয়সের নারী ক্রেতারা যাচাই-বাছাই করে কিনছেন সবজি, মুদি পণ্য, চাল, ডাল সবই। বউবাজারে প্রায় ৫০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান রয়েছে। বেশির ভাগ দোকানই মহিলারা চালান। দুই যুগ ধরে মহিলারা দাপটের সঙ্গে বউবাজার টিকিয়ে রেখেছেন।

মোল্লাপাড়া, নীলগঞ্জ, বারান্দিপাড়া, সিটি কলেজ পাড়ার পাঁচ থেকে ছয় হাজার নারী প্রায় প্রতিদিন বউবাজারে কেনাকাটা করেন। বাজারেই কথা হলো বিক্রেতা আকলিমা বেগমের (৫৬) সঙ্গে। তাঁর বাড়ি বাঘারপাড়া উপজেলার বলরামপুর গ্রামে। স্বামী আফসার আলী মারা গেছেন ৩৫ বছর আগে। সেই থেকে সংসারের ভার তুলে নিয়েছেন নিজ কাঁধে। আকলিমা ১২ বছর ধরে বউবাজারে সবজি বিক্রি করছেন। বললেন, ‘এই বাজারে ব্যবসা করে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিপুতিদের নিয়ে বেশ ভালোই আছি। ’ স্বামী অপূর্ব রাহার মৃত্যুর পর থেকে একাকী জীবন পঞ্চাশোর্ধ্ব শান্তি রাহার। সিটি কলেজপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে বউবাজারে শাকসবজি বিক্রি করেন তিনি। এই বিধবা বললেন, ‘বউবাজার আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ঘরভাড়া দিচ্ছি। ইলেকট্রিক বিল দিচ্ছি। ডাল-ভাত খাচ্ছি। এখন আর আমার কোনো সমস্যা নেই। ’ মুনিরা বেগম বিক্রি করেন আলু, পেঁয়াজ ও রসুন। তাঁর দুই ছেলেমেয়ে। স্বামী আব্দুল গফুর তাঁকে সহযোগিতা করেন। মুনিরা বললেন, ‘আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে যায়। ’ বউবাজারে কেনাকাটার সময় কথা হয় ক্রেতা গৃহবধূ নূরজাহানের সঙ্গে। মোল্লাপাড়ার এই গৃহবধূ বললেন, ‘আমি ১৪ বছর ধরে এই বাজারে কেনাকাটা করছি। মহিলা দোকানদাররা ওজনে কম দেন না। লাভও কম করেন। ’ আরেক ক্রেতা স্বর্ণালী খাতুন (২২) জানালেন, স্বামী পেশার কারণে ব্যস্ত থাকেন। এ জন্য বউবাজার থেকে প্রাত্যহিক বাজারটা তিনিই সারেন।


মন্তব্য