kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সংসদীয় কমিটিগুলোর কোনো তত্পরতা নেই

রিজার্ভে চুরি : সংশ্লিষ্টরা জানান দ্রুত বৈঠক ডাকা হবে

নিখিল ভদ্র   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে চুরির ঘটনায় দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় বইলেও জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো নীরব। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট সিনেট কমিটি একের পর এক শুনানি করে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো এখনো প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করেনি।

সংশ্লিষ্টরা শুধু এটুকু বলেছেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংসদীয় কমিটির মুখোমুখি করা হবে। দ্রুতই বৈঠক ডাকা হবে বলে তাঁরা জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় একটি চক্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় পাচার হওয়া দুই কোটি ডলার উদ্ধার হয়েছে। আর ফিলিপাইনে পাচার হওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ফিলিপাইনের সিনেট কমিটি এ বিষয়ে শুনানি করছে। গত ১৫ মার্চ শুনানি শুরু হয়। কমিটি ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে সিনেট কমিটির মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছেন রিজার্ভ কেলেঙ্কারির জন্য অভিযুক্ত ব্যবসায়ী কিম ওয়ং।

রিজার্ভে চুরির বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত চালাচ্ছে। কিন্তু জাতীয় সংসদ বা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক খাতে নজরদারির (মনিটরিং) দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির। সরকারি প্রতিষ্ঠান দেখভাল করার জন্য রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া এ ধরনের আলোচিত ঘটনা তদন্তের জন্য জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে বিশেষ কমিটি গঠনের সুযোগ রয়েছে। সেই কমিটি গঠনের জন্য পরবর্তী সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাঁরা বলেন, অন্য দুটি কমিটি উদ্যোগ নিতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি কর্নেল (অব.) শওকত আলী বলেন, ইতিমধ্যে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে; তদন্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিটির মুখোমুখি করা হবে। আগামী ৮ এপ্রিল কমিটির বৈঠকে তদন্তবিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

রিজার্ভে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শওকত আলী বলেন, ‘ফিলিপাইনের সিনেটের মতো গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে আমাদের শুনানি করার সুযোগ নেই। তবে সংশ্লিষ্টদের তলব করার ক্ষমতা রয়েছে এ কমিটির। আমরা সে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে চাই। ’ তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

কালের কণ্ঠের কাছে রিজার্ভে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এ ঘটনা দেশের আর্থিক নিরাপত্তায় চরম আঘাত। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি ধরা পড়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

ড. রাজ্জাক বলেন, কমিটি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবে। শিগগির কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ডাকা হবে। সংশ্লিষ্ট যে কাউকে তলব করা হতে পারে।

এদিকে সংসদীয় কমিটিগুলোর তদন্তভিত্তিক সুপারিশ কতটা আমলে নেওয়া হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির তদন্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাব-কমিটি (নবম সংসদ) প্রতিবেদন দিয়েছিল। বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছিল। একই স্থায়ী কমিটির সাব-কমিটি (বর্তমান সংসদ) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অর্থ লোপাটের ঘটনার তদন্ত করে আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনেক সুপারিশ করেছে। দুই কমিটির বেশির ভাগ সুপারিশই বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা।


মন্তব্য