kalerkantho

26th march banner

নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের কারবার

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বেড়েছে। এক থেকে দেড় লাখ টাকায় মিলছে হালকা অস্ত্র। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অবৈধ অস্ত্র কিনছেন প্রভাবশালী প্রার্থীরা। আবার প্রার্থীদের কাছে নিজেদের কদর বাড়াতে অবৈধ অস্ত্র জোগাড় করছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও। আর সময়-সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার ও জঙ্গিরাও। মাঠ পর্যায়ের এসব তথ্য সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইউপি নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসা বিদেশি ক্ষুদ্র অস্ত্র এখন নির্বাচনের মাঠে ব্যবহার হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মূল ক্রেতা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিদের মাখামাখির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা গোয়েন্দা হেফাজতে স্বীকার করেছে, ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক তাদের অস্ত্র ব্যবসা বেড়েছে। সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি ইউপি প্রার্থীরাও তাদের ক্রেতা।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাজধানীর বংশাল থানার ইউসুফ মার্কেট থেকে ছয়টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলিসহ দবির উদ্দিন ওরফে তুহিন, আব্দুল হামিদ ও ইরফানুল হাসান পিয়াস নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, ইউপি নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর জন্য কুমিল্লার বেশ কয়েকজন প্রার্থী তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র কিনেছেন। তাঁদের আরো অস্ত্রের প্রয়োজন।

ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লা শহরকেন্দ্রিক সাতজন বড় মাপের অবৈধ অস্ত্র কারবারির নাম পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা ২৩টি ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। প্রতিটি অস্ত্রের জন্য তাদের কাছ থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ছাড়াও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীচক্রের সদস্য এবং জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যরাও তাদের অস্ত্রের ক্রেতা।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য মতে, গত ছয় মাসে সারা দেশে কয়েক শ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছেন পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দারা। একই সময়ে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তি। ডিবি ও র‌্যাব সূত্র মতে, এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে ডিবি। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে আরো ৩০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে যে পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে তার খুব কম সংখ্যক উদ্ধার হয়েছে। র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবারও রাজধানীতে দুটি অবৈধ ক্ষুদ্র অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এক অবৈধ অস্ত্র কারবারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের অস্ত্র ব্যবসায় সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্সরাও তাদের খুবই ঘনিষ্ঠ। অস্ত্রের ক্রেতাদের মধ্যে আছে জামায়াত-শিবির, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী, এমনকি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী।


মন্তব্য