kalerkantho

26th march banner

বখাটে বন্ধুরাই খুন করে শিক্ষার্থী স্বাধীনকে!

এস এম আজাদ    

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



বখাটে বন্ধুরাই খুন করে শিক্ষার্থী স্বাধীনকে!

স্বাধীন

রাজধানীর কদমতলীর দনিয়া এলাকায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া স্বাধীনকে তার বখাটে বন্ধুরাই গলা কেটে হত্যা করেছে বলে দাবি করছে স্বজনরা। তাদের মতে, হত্যার কারণ ছিল একটি মেয়ে। স্কুলপড়ুয়া ওই মেয়েটিকে পছন্দ করত স্বাধীন ও তার এক বন্ধু। এ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে স্বাধীনকে বাসায় ঢুকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বজনরা জানায়, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুরাদ, শাকিল ও পটলা সুমনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তারা ঘটনায় জড়িত বলে আলামতও মিলেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রহস্য উদ্ঘাটনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তাঁরা। পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হলে আসামি গ্রেপ্তার করে গণমাধ্যমে জানানো হবে।

জানতে চাইলে স্বাধীনের মা রিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে খারাপ ছিল না। ও নেশাপানি করত না। বাজে আড্ডায় যেত না। কারো সঙ্গে ঝামেলা ছিল না। তবে কয়েকটা খারাপ পোলাপাইনের সঙ্গে মিশছে সে। ওরাই আমার সন্তানরে শেষ কইরা দিছে। এ ছাড়া আর কেউ ওরে মারে নাই। ’

কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আমরা কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। তবে এখনই কিছু বলতে চাইছি না। এটুকু বলা যায়, সামান্য কারণে বন্ধুদের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছে। আসামি ধরে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। ’ জানতে চাইলে ওসি স্বীকার করে বলেন, ‘মুরাদ, শাকিল ও পটলা সুমন নামে তিনজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আটক বা গ্রেপ্তার এখনো করা হয়নি। ’

স্বাধীনের মামা মো. রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাশের পাশে এক জোড়া জুতা পাওয়া গেছে, যেগুলো ছিল শাকিলের। সে পুলিশরে বলছে, স্বাধীন নাকি তার জুতা নিয়া আসছে। তবে আমরা শাকিলের পায়ে ওই জুতা আগে দেখি নাই। আবার সুমনের গায়ে স্বাধীনের একটা গেঞ্জি পাওয়া গেছে। সে বলছে, স্বাধীন নাকি তারে সেই গেঞ্জি দিছে। আবার বোন বলছে, ঘটনার আগের রাতেই ওই গেঞ্জি সে আলমারিতে রাখছে। ’ রিপন দাবি করেন, শাকিল ছিল স্বাধীনের সহপাঠী। তার সূত্রে সুমন ও মুরাদের সঙ্গে পরিচয়। এই দুজন মাদকাসক্ত। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ নানা অভিযোগ আছে। স্বাধীন একটি মেয়েকে পছন্দ করত। ওই মেয়েটিও স্থানীয় ব্যাংক কলোনি স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সম্প্রতি জানা যায়, শাকিলও ওই মেয়েটিকে পছন্দ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ হয়। কয়েকদিন আগে স্বাধীনের মোবাইল ফোন রেখে দেয় কয়েকটি ছেলে।

রিপন জানান, এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাসার বাইরে আড্ডা দিতে এবং দেরি করে বাসায় ফিরতে শুরু করে স্বাধীন। অনেক সময়ই সে তার মায়ের ফোন ধরত না। এ নিয়ে মা রিনা বেগম উত্কণ্ঠায় ছিলেন। তিনি স্বাধীনকে তার বন্ধুদের নাম ও ফোন নম্বর দিতে বলেন যেন তিনি খোঁজ-খবর নিতে পারেন। খুন হওয়ার আগের রাতে একটি কাগজে সব বন্ধুর নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখে দেয় স্বাধীন। ওই কাগজটি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার সকালে দক্ষিণ দনিয়ার পাটেরবাগ ক্লাব রোডের ৭৯৮/২ নম্বর বাড়িতে গলাকেটে হত্যা করা হয় স্বাধীনকে। ওই সময় তার মা-বাবা বাসায় ছিলেন না।


মন্তব্য