kalerkantho


রংপুরে লাঙ্গলের দুর্গে নৌকার জয়জয়কার

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



রংপুরে লাঙ্গলের দুর্গে নৌকার জয়জয়কার

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পৈতৃক ভিটা রংপুর। সেখানে দলটির শক্ত ঘাঁটি।

কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির ভরাডুবি হয়েছে। একসময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার।

নিজেদের মধ্যে কোন্দল আর দলাদলির কারণে জাতীয় পার্টির এমন ভরাডুবি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টিকে আর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না বলেই স্থানীয় নির্বাচনে দলটির এই পরিণতি বলে মনে করছে কেউ কেউ।

তবে রংপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মনে করেন, দলে নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের ব্যবধান সৃষ্টি হওয়ার কারণে এমন ভরাডুবি। তিনি বলেন, ‘জাপা থেকে নির্বাচিত হয়ে নেতারা আর এলাকামুখী হন না, রাখেন না কর্মীদের খোঁজখবরও। এ কারণেই দলটির জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ’

দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গত বৃহস্পতিবার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির প্রার্থী। যেখানে ১০টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

বিভাগের আট জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে ১০৫টির মধ্যে জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মাত্র তিনটিতে জয়লাভ করেছে। নির্বাচিতরা হলেন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে আবদুর রাজ্জাক, বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে শাহজাহান আলী মোল্লা ও চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নে এ টি এম ফজলুল হক।

প্রথম ধাপে গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫টি ইউনিয়নের একটিতেও জিততে পারেনি জাতীয় পার্টি। রংপুর শহরের খুব কাছেই পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আবদুল জলিল সরকার। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর আলমের কাছে হেরে গেছেন।  

নব্দীগঞ্জ এলাকার জাতীয় পার্টির সমর্থক সোহেল মিয়া ও ছালাম শেখ জানান, দলের অবস্থা ভালো নয়। পার্টির চেয়ারম্যান একেক সময় একেক ধরনের কথা বলেন। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের মধ্যেও সমন্বয় নেই। আবার কখন কে বহিষ্কার হন সেই ভয়ে কেউ আর ভালোভাবে কাজ করেন না। জাপার প্রতি আস্থাও নেই মানুষের।

এর আগে উপজেলা নির্বাচনেও দলটি ভালো করতে পারেনি। রংপুর সদরসহ আট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনটিতে জাপার প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। বাকি পাঁচটিতে হারতে হয় তাঁদের।

এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এই বিভাগের আট জেলার ১৯টি পৌরসভা নির্বাচনে ছয়টিতে মেয়র প্রার্থী দিতে পারেনি জাতীয় পার্টি। বাকি ১৩টির মধ্যে শুধু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হন আবদুর রহমান মিয়া। রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাতিফুল খাবির মাত্র ১৭০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এরপর গত ২০ মার্চ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী না থাকায় এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাকিবুর রহমান মাস্টার বিজয়ী হন। অথচ একসময় কাউনিয়া-পীরগাছা এলাকায় প্রার্থী কোনো বিষয় ছিল না। লাঙ্গল প্রতীক হলেই যে কেউ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন।


মন্তব্য