kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বাড়ি নিয়ে বিরোধ

নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত, সাংবাদিকসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর ভাসানটেকে বাড়ি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মো. সবুজ (৩৫) নামের এক নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ভাসানটেকের বদরুজ্জামান সড়কের ২৭৩/৩ নম্বর বাড়িতে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় যমুনা টেলিভিশনের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক এবং ঢাকা ল রিপোর্টার্স ফোরামের জ্যেষ্ঠ সদস্য এনামুলক হক এনামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) স্থায়ী সদস্য এনামুল হক ও তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও থানায় নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন ডিআরইউ সভাপতি জামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ। ল রিপোর্টার্স ফোরামও এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ভাসানটেক থানার ওসি নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, রাইয়ান জিএম এস্টেট নামের একটি ডেভেলপার কম্পানির মালিক মাশুক রেজার মামালার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক এনামুল হক এবং তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শ্যালক মেহেদি হাসান গালিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি বলেন, মামলার বাদী বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী সবুজকে চার তলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ২৭৩/৩ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিক এনামের পরিবারের অভিযোগ, গতকাল সকালে রাইয়ান জিএম ডেভেলপার  কম্পানির মালিকপক্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাঁদের বাসায় হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। প্রতিরোধ করতে গেলে কম্পানির লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় এনামের স্ত্রী তানিয়া চৌধুরী নির্ঝর গুরুতর আহত হন। তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, এনামের পরিবারের লোকজনের ওপর হামলার সময় ওই বাসায় ব্যাপক হট্টগোল হয়। তখন কেয়ারটেকার সবুজ ওপর থেকে নিচে রডের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ ডেভেলপারের লোকজনকে আটক না করে উল্টো এনাম, তাঁর ভাই মামুন ও শ্যালক গালিবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এনাম ও অন্যদের আটক করে থানায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি নজরুল বলেন, ‘উনি (এনাম) আগে থেকেই হার্টের রোগী। তাঁর শারীরিক অনেক সমস্যা আছে। ’ পুলিশ হেফাজতে এনামকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, ডেভেলপার কম্পানি এনামের শ্বশুরের সঙ্গে তাঁর জায়গায় ভবন নির্মাণের চুক্তি করে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি। এ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। কিছু কাজ করে কম্পানি তিনটি ফ্ল্যাট বিক্রি করলেও জমির মালিকের অংশে কাজ বন্ধ করে দেয়। কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়ায় ডেভেলপার কম্পানি মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কয়েকটি হয়রানিমূলক মামলা করে। তবে ওই সব মামলা থেকে অব্যাহতি পায় মালিকপক্ষ।

এর পর থেকে ডেভেলপার কম্পানি এনামের শ্বশুরের পরিবারকে ভয় দেখাচ্ছিল, হুমকি দিচ্ছিল।  


মন্তব্য