kalerkantho


প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর

মহেশখালীতে হবে এলএনজি টার্মিনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



জ্বালানি সংকট নিরসনে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখল। উদ্যোগ নেওয়ার ছয় বছর পর গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সই করল সরকার।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা ভবনের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সচিব সৈয়দ আশফাকউজ্জামান। আর এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষে সই করেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা কার্লমেন থার্ম। এ সময় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইসতিয়াক আহমদসহ সরকার ও এক্সিলারেট এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টার্মিনাল নির্মাণের কাজ দেরির জন্য বিশ্বব্যাংককে দুষলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করতে চেয়েছি। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ায় দুই বছর পিছিয়ে পড়েছি। ’ ২০১৮ সালের মধ্যেই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, মহেশখালীতে এলএনজির ধারণক্ষমতা থাকবে এক লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার। দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি মহেশখালীতে ২৩ মাসের মধ্যে একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করে দেবে। তিনি বলেন, ‘আজকে যে চুক্তি হলো, এটি প্রাথমিক। এখন থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কয়েকটি স্টাডি করবে—কোথায় টার্মিনালটি হবে। একই সঙ্গে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হবে। তারপর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হবে। ’ তবে চূড়ান্ত চুক্তি কখন হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, আগামীতে আরো দুটি এলএনজি টার্মিনাল হবে দেশে। যার একটি হবে মহেশখালীতে, আরেকটি পটুয়াখালীর পায়রায়।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, টার্মিনাল নির্মাণ ও অন্যান্য খরচ মিলে এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডকে প্রতি  হাজার ঘনফুট গ্যাসের জন্য ৪৯ সেন্ট করে দিতে হবে। তবে অন্যান্য খরচ মিলে তা দাঁড়াবে ৫৯ সেন্টে। টার্মিনালটি নির্মাণে বিদেশি কম্পানিটি ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে জানান তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ধারণা দিতে গিয়ে পেট্রোবাংলার সচিব জানান, মহেশখালী এলাকায় সমুদ্রে সব সময় একটি ভাসমান জাহাজ থাকবে। জাহাজটি কোথায় রাখলে ভালো ও নিরাপদ হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেবে এক্সিলারেট। বিদেশ থেকে আরেকটি জাহাজ এলএনজি এনে সেখানে ভেড়াবে। সেখান থেকে প্রক্রিয়াকরণের  মাধ্যমে পাইপলাইনের মাধ্যমে তা চট্টগ্রামে আনা হবে। পরে তা সারা দেশে সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, মহেশখালী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আনোয়ারায় এলএনজি আনার জন্য ৯০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের কাজ চলছে। সেটির কাজও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তার মাধ্যমে এলএনজি নেওয়া হবে জাতীয় গ্রিডে। এর আগে ২০১৪ সালে এক্সিলারেটের সঙ্গে টার্ম শিট অনুস্বাক্ষর করে সরকার। আর গত বছরের ১৪ জানুয়ারি অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রিসভায় পেট্রোবাংলার সঙ্গে এক্সিলারেটের এ টার্ম শিট প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।


মন্তব্য