kalerkantho


চার বছরেও পদমর্যাদা নিশ্চিত হয়নি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের

মোশতাক আহমদ   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



জেলা পরিষদের প্রশাসকদের পদমর্যাদা সাড়ে চার বছরেও নিশ্চিত হয়নি। তাঁদের অধীনে কাজ করছেন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপসচিব পদমর্যাদার একজন সচিব।

অথচ তাঁদের পদমর্যাদাই নির্ধারিত হয়নি।

জেলা পরিষদের প্রশাসকদের উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল গত বছর; কিন্তু সেটি ফিরিয়ে দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ অবস্থার মধ্যে এ বছরই জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে নির্বাচনের কথা ভাবছে সরকার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, একজন জেলা পরিষদ প্রশাসক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ করার জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রতিবছর আড়াই কোটি থেকে চার কোটি টাকা বরাদ্দ পান। একটি সরকারি পাজেরো গাড়ি পান; প্রতি মাসে গাড়ির জন্য ৪০০ লিটার জ্বালানি তেল পান।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের নিয়ে বার্ষিক সভা করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রশাসকরা তাঁদের বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানো, গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন, জেলা পরিষদের লোকবল বাড়ানোসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। জেলা পরিষদের বেদখল হওয়া জমি ও স্থাপনা উদ্ধারের জন্য জেলা পরিষদের সচিবদের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ক্ষমতা দেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা। প্রশাসকরা তাঁদের সম্মানী ২৭,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদ ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য সরকার ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া সব জেলায় প্রশাসক নিয়োগ করে। কিন্তু তাঁদের পদমর্যাদা কী হবে তা স্থির করা হয়নি।

প্রশাসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাঁদের পদমর্যাদা উপমন্ত্রীর সমান করার প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিবেচনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সেটি ফিরিয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলায় একাধিক সংসদ সদস্য থাকেন, কখনো মন্ত্রীও থাকেন। ডিসি, এসপি, জেলা জজসহ অনেক বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করেন। বিভিন্ন সভা বা কমিটিতে জেলা পরিষদের প্রশাসককে স্থান দেওয়া নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় প্রশাসনকে। কার আগে বা কার পরে তাঁকে জায়গা দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা এরশাদ সরকারের আমলে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা পেতেন, প্রশাসকরা সেটাই চান। কিন্তু নির্বাচিত না হওয়ায় সরকার তাঁদের পদমর্যাদা নিশ্চিত করতে পারছে না।

গতকাল আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত জেলা পরিষদের বার্ষিক পর্যালোচনা সভায় সারা দেশের জেলা পরিষদ প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। অনেকে অন্যান্য দাবির সঙ্গে তাঁদের উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আনেন। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তিনি আগামীতে জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে নির্বাচনের ইঙ্গিত দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসকদের মাসিক সম্মানী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিষদগুলোকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন, জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন কাজের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে জেলা পরিষদকে ভূমিকা পালন করতে হবে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ইফফাত আরা বলেন, গত সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। তাতে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের উপমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসকরা নির্বাচিত নন, তাই তাঁদের মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ নেই—এ কথা বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তাব ফেরত পাঠায়।

যুগ্ম সচিব আরো বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এ উদ্যোগকে অনেকে ভালো চোখে দেখছেন না। যাঁরা নির্বাচন চান না তাঁদের মতে, জেলা পরিষদ প্রশাসক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার জন্য। নির্বাচন হলে এ পদে অনেকে প্রার্থী হবেন। এ নিয়ে ঝামেলা হবে। তার চেয়ে মনোনীতই থাকুক। পদমর্যাদা না পেলেও সুযোগ-সুবিধা তো পাওয়া যাচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পদমর্যাদা নেই, তাতে কোনো দুঃখ নেই। আমাদের যে মূল্যায়ন করা হয়েছে তার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আমরা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা হিসেবে সমাজে, জেলায় সম্মান পাচ্ছি। আমাদের আর মর্যাদা পাওয়ার কিছু নেই। ’

গাজীপুরের জেলা পরিষদ প্রশাসক আকতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাড়ে চার বছরেও আমরা পদমর্যাদা পাইনি। কিন্তু দল ও সরকার মূল্যায়ন করেছে, এটাই বড় কথা। দেখা যাক, সরকার কী করে। ’


মন্তব্য