kalerkantho


ফুসফুসের সমস্যায় ঢাকার ২৫ শতাংশ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ফুসফুসের সমস্যায় ঢাকার ২৫ শতাংশ মানুষ

বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকায় বায়ুদূষণ মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বায়ুদূষণের কারণে রাজধানীর ২৫ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের নানা সমস্যায় আক্রান্ত। আর এর মধ্যে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হারও উদ্বেগজনক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নাগরিক স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণার ফলাফল অনুষ্ঠানে এমন তথ্যই উপস্থাপন করা হলো। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (বিইউ) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন। তিনি জানান, রাজধানীর প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছে। বায়ুদূষণের কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের সমস্যাও বাড়ছে। গবেষণায় রাজধানীর ১১টি এলাকার শিশুসহ নানা বয়সী ৫০০ জনের বেশি মানুষের ফুসফুসের সক্রিয়তার পরীক্ষা বা পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (পিএফটি) করা হয়। পিএফটির ফলাফলে দেখা যায়, রাজধানীর ২৩.৪৭ শতাংশ বাসিন্দা ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছে। জরিপে অংশ নেওয়া শতকরা ২২.১৮ ভাগ পুরুষ ও ২৪.৭২ ভাগ নারী ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত।

অনুষ্ঠানে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমাদের শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্বের অনেক শহরের তুলনায় বেশি। দিল্লি ও বেইজিং শহরে আমাদের থেকে কম মাত্রার বায়ুদূষণ হওয়ার পরও সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছে। তেমনি আমাদের শহরের সবাইকে বায়ুদূষণের ব্যাপারে সজাগ হতে হবে। ’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার আরবান ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, কর্মকাণ্ড ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক সিটি করপোরেশনের আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকের সব ধরনের ইউটিলিটি সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, এ শহরকে দূষণমুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আর গ্রিন ঢাকা গড়তে ডিএনসিসি এলাকায় আগামী দুই বছরের মধ্যে তিন লাখ ২৫ হাজার গাছ রোপণ করা হবে। সেই সঙ্গে সব ভবন মালিককে তাঁদের ভবনে নতুন করে রং করার আহ্বান জানান তিনি।

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা শত শত টন বর্জ্য, মেডিক্যাল বর্জ্য, নির্মাণ বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনা করতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ময়লা-আবর্জনা নিয়ে ট্রাক যাতায়াত করার সময় ঢেকে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালুভর্তি যেসব ট্রাক রাজধানীতে প্রবেশ করে তাদেরও ঢেকে আসতে হবে। ময়লা ও বালুর বেশির ভাগই বাতাসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ফলে আমাদের শহরের বায়ুদূষণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ’

তিনি বলেন, কোনো দোকান মালিক তার নিজস্ব জায়গার বাইরে মালামাল রাখতে পারবে না। যারা আইন মানবে না তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে সেবা সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল মালিক বলেন, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড থেকে শুরু করে মার্কারি, লেডের মতো ভারী পদার্থ বাতাসে মিশে যাচ্ছে। এগুলো ফুসফুসের পাশাপাশি হূদরোগ, যকৃতের সমস্যা ও গর্ভবতী মায়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বায়ুদূষণের কারণে ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রদাহজনিত (সিওপিডি) রোগ বেশি হচ্ছে।


মন্তব্য