kalerkantho


৯টি কেন্দ্র দখলের পরও বন্ধ হলো না ভোটগ্রহণ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



৯টি কেন্দ্র দখলের পরও বন্ধ হলো না ভোটগ্রহণ

কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটলেও একজন নির্বাচন কমিশনারের অনীহার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন বন্ধ করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় গতকাল দুপুরে ওই ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করার প্রস্তাব দেয় নির্বাচন কমিশনের কাছে। কিন্তু এ-সংক্রান্ত ফাইলটি বিকেল ৪টা পর্যন্ত আটকে রাখেন একজন নির্বাচন কমিশনার। এরপর তিনি ফাইলে এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন। অন্য নির্বাচন কমিশনাররা ওই ইউপির নির্বাচন বন্ধের পক্ষে থাকলেও ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, গতকাল সকালেই চাঁদপুরের জেলা নির্বাচন অফিসার এবং এ জেলার হাইমচরের উপজেলা নির্বাচন অফিসার নির্বাচন কমিশনকে টেলিফোনে জানান, গাজীপুর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরে অবস্থিত মণিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গণশিক্ষা বিদ্যালয়ের ৯টি ভোটকেন্দ্রের বাইরে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকরা অবস্থান করে অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থক ও এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এ ছাড়া অন্য প্রার্থীদের দেশি অস্ত্র দিয়ে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। ওই সব প্রার্থী এখন উপজেলা নির্বাচন অফিসে অবস্থান করছেন। রিটার্নিং অফিসার জানান, তিনি বিষয়টি থানার ওসি ও কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন। টেলিফোনে পাওয়া এ বার্তা লিপিবদ্ধ করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মিজানুর রহমান। এ বার্তা পাওয়ার পরও কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেখানে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁরা সেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাব রাখেন। তাঁদের কাছে সাংবাদিকরা এই আভাস পান যে ওই ইউপির ভোট বন্ধ হতে যাচ্ছে। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারদের কাছ থেকে ওই ফাইল আর তাঁদের কাছে ফেরত আসেনি।

এদিকে গতকাল ভোটগ্রহণ চলাকালে বগুড়ার শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাচন অফিসার এ এস এম জাকির হোসেন নির্বাচন কমিশনকে ফ্যাক্স বার্তায় জানান, এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। তবে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সরবরাহ করা স্ট্যাম্প প্যাডগুলোতে কালি নেই, শুকিয়ে গেছে। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য একটি করে কালির বোতল সরবরাহ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া মার্কিং সিলগুলোর আঠা খুলে যাওয়া এবং অমোচনীয় কলমগুলোর কালি শুকিয়ে যাওয়ায় ভোটগ্রহণে সমস্যা হচ্ছে।

রাতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনে ৩৫টি কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়েছে। এ ধাপে ৬৩৯ ইউপিতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ২০৫।


মন্তব্য