kalerkantho

26th march banner

ফার্নেস অয়েলের দাম কমল লিটারে ১৮ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ফার্নেস অয়েলের দাম কমল লিটারে ১৮ টাকা

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতনে সাড়া দিয়ে অবশেষে ফার্নেস অয়েলের দাম কমাল সরকার। শিল্প ও বিদ্যুৎ উত্পাদনে বহুল ব্যবহূত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১৮ টাকা কমানো হয়েছে। ৬০ টাকার ফার্নেস অয়েল এখন ৪২ টাকায় পাওয়া যাবে বলে গতকাল সরকারি এক গেজেটে জানানো হয়েছে। নতুন দাম গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

তবে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

গেজেটে বলা হয়েছে, ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য হবে ৪২ টাকা, যা গতকাল রাত ১২টা থেকে কার্যকর।

ফার্নেস অয়েলের দাম কামায় এখন তেলচালিত সরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে উত্পাদন খরচ কমবে। এত দিন কেবল বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলো বিশ্ববাজারে তেলের ধারাবাহিক দরপতনের সুফল পেয়ে আসছিল। দাম কমানোর ফলে ফার্নেস অয়েল ব্যবহারকারী শিল্প-কারখানা ও নৌপরিবহনে জ্বালানি খরচ কমবে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘ফার্নেস তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ফার্নেস তেলের দাম লিটারপ্রতি কত কমানো হবে তার ঘোষণা আসবে। ’ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

বিশ্ববাজারে দুই বছর ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে প্রায় ৭০ শতাংশ। তবে দেশীয় বাজারে দাম অপরিবর্তিত থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গত বছর সাশ্রয় হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে বিপিসির সাশ্রয় হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা, বছর শেষে তা গিয়ে দাঁড়াবে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির কারণে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত লোকসান অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারবে।

গত ৬ জানুয়ারি জ্বালানি উপদেষ্টা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেখানে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে আাামদের কিছু করণীয় আছে। এটা স্বীকার করতেই হবে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ’ দাম কমানোর প্রক্রিয়া হিসেবে অর্থমন্ত্রী জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে বলেন, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রীর চিঠি পাওয়ার পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করতে জ্বালানিসচিবেকে নির্দেশ দেন।

বিশ্বব্যাংকও গত বছর থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। একাধিকবার বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর অনুরোধ করেছেন।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের সময় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই হারে বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রল ৯৬ টাকা এবং কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


মন্তব্য