kalerkantho


ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

নকল মোড়কে বিক্রি, ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নকল মোড়কে বিক্রি, ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গতকাল পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অভিযানকালে নামিদামি কম্পানির মোড়কে নকল পণ্য জব্দ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইউনিলিভার, প্রাণ, বনফুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোড়ক (প্যাকেট) নকল করে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রির দায়ে পুরান ঢাকার সাত প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে এ অভিযান চালানো হয়। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে অংশ নেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিলিভার, বনফুল, প্রাণ, সজীব, বোম্বে সুইটস, গ্ল্যাক্সো গ্লুকোজ ও হরলিকস এবং টেস্টি স্যালাইনের মোড়ক নকল করে বিক্রি

করছিল। প্রতারক এই চক্রের ওপর তিন মাস ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়ে গতকাল দুপুর ২টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ঘোষ স্ট্রিটের একটি বহুতল ভবনের নিচতলা মার্কেটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে লিলি টেক এন্টারপ্রাইজ, সজীব প্যাকেজিং এবং ফারুক অ্যান্ড ব্রাদার্স, নজরুল, বিক্রমপুর, কুমিল্লা ও এইচএসবি নামের পেপার হাউসে নকল মোড়কের সন্ধান মেলে। অভিযানে নকল মোড়ক জব্দের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সাত প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এক থেকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানার টাকা দিলে কারাদণ্ড মওকুফ করা হবে বলে শর্ত দেন আদালত। এ অবস্থায় তাত্ক্ষণিক ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে সাজা থেকে রক্ষা পান প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এপিবিএনের এএসপি আমিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র নামকরা ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি মোড়কও নকল করছে। ফলে ক্রেতারা মোড়কের কারসাজিতে নকল পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মাধ্যমে প্রতারক ব্যবসায়ী চক্রের কর্মকাণ্ড রোধের চেষ্টা চলছে। অভিযান চলবে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক ফারুক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, নকল পণ্য বিক্রি করতে আগে কখনো বাধার মুখে পড়েননি। তবে এখন থেকে তিনি আর নকল পণ্য বিক্রি করবেন না বলে মুচলেকা দেন।

নজরুল পেপার হাউসের মালিক নজরুল জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে ফরমায়েশ দিয়ে মোড়ক তৈরি করিয়ে নিত। তিনি প্রায় এক বছর ধরে এ ধরনের নকল পণ্য তৈরি করছিলেন। তবে এখন থেকে তিনি আর এ ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা করবেন না।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ব্যবসায়ীরাও ভবিষ্যতে এ ধরনের নকল পণ্যের ব্যবসা থেকে বিরত থাকবেন বলে মুচলেকা দিয়েছেন।


মন্তব্য