kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ত্রিশালের ইউএনও বাসের ধাক্কায় নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ত্রিশালের ইউএনও বাসের ধাক্কায় নিহত

রাশেদুল ইসলাম

মোটরসাইকেলে করে সরকারি কাজে যাওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল ইসলাম (৩৮)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বৈল্লর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাশেদুল ইসলাম গত ২৮ জানুয়ারি ত্রিশালে ইউএনও পদে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ২৭তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাশেদুল গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর সদরের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। ত্রিশালে ইউএনও পদে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমিসংক্রান্ত একটি বিষয় সরেজমিন তদন্ত করার জন্য রাশেদুল ইসলাম বিকেল ৫টার দিকে ভূমি কার্যালয়ের এমএলএসএস নছর আলীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ত্রিশাল সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বৈল্লর ইউনিয়নের হদ্দেরভিটা গ্রামে রওনা দেন। মোটরসাইকেলটি নছর আলীর এবং তিনিই সেটা চালাচ্ছিলেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে ময়মনসিংহের দিকে বৈল্লর এলাকার নূরুর দোকানের কাছে পৌঁছলে পেছন থেকে আসা ময়মনসিংহ-ত্রিশাল রুটের পদ্মা গেটলক সার্ভিসের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইউএনও রাশেদুল ইসলাম। গুরুতর আহত হন নছর আলী।

দুজনকে সঙ্গে সঙ্গে পাশের সিবিএমসিবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ময়মনসিংহে আনার পর রাশেদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি বিভাগের চিকিত্সক। নছর আলীকে পাঠানো হয় অপারেশন থিয়েটারে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, পুলিশ সুপার মঈনুল হক এবং বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও ও ম্যাজিস্ট্রেটরা।

সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে হাসপাতাল চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কর্মকর্তারা। ত্রিশাল উপজেলা সদর ছাড়াও গ্রাম এলাকা থেকে শত শত মানুষ হাসপাতালে ছুটে আসে তাদের প্রিয় সদাহাস্য এই কর্মকর্তাকে শেষবারের মতো দেখতে।

এদিকে নিহত রাশেদুল ইসলামের মা-বাবাও সম্প্রতি বেড়াতে এসেছিলেন ত্রিশালে। দুর্ঘটনায় ছেলের এমন মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তাঁরা। হাসপাতালে এসে ছেলের লাশ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা। রাশেদুল ইসলামের লাশ রাখা হয় জরুরি বিভাগের বারান্দায়। লাশের পাশে বসে ছিলেন হতবিহ্বল স্ত্রী। রাত ৮টার দিকে রাশেদুল ইসলামের লাশ নিয়ে ত্রিশাল রওনা দেয় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। রাত সাড়ে ৯টায় ত্রিশাল নজরুল একাডেমি মাঠে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাঁর লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ত্রিশাল থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, যে বাসটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, সেটি চিহ্নিত ও আটক করার চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য