kalerkantho


ইপিসি সই, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু

উত্পাদনে আসবে ২০১৯ সালে, ইউনিটপ্রতি খরচ পড়বে ৬ টাকা ৬৫ পয়সা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পটুয়াখালীর পায়রায় কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকন্দ্র স্থাপনে ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) চুক্তি সই হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হলো। কেন্দ্রটি স্থাপনে মোট ব্যয় হবে ২০০ কোটি ডলার। চীনের দুটি ব্যাংক এই কেন্দ্রে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। চুক্তি সই উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন ভালো স্থান। বিদ্যুতের মতো উল্লেখযোগ্য খাতে চীনের বিনিয়োগের জন্য তাদের ধন্যবাদ। ’

কলাপাড়া উপজেলার পায়রায় বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) যৌথভাবে বিদ্যুৎকন্দ্রটি স্থাপন করবে। কেন্দ্রটি পরিচালনায় বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড নামে পৃথক একটি কম্পানি গঠন করা হয়েছে। সমান অংশীদারির ভিত্তিতে এই কেন্দ্রের মালিকানা যৌথভাবে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি ও সিএমসির। কেন্দ্রটি নির্মাণে ইপিসি কন্ট্রাক্টের কাজটি পেয়েছে যৌথভাবে চীনের তিন কম্পানি এনইপিসি, সিইসিসি ও সিইইজিএন।

গতকাল বাংলাদেশ-চায়না কম্পানির পক্ষে এর সচিব দিপক কুমার ঢালি, এনইপিসির প্রেসিডেন্ট চাই মিং ও সিইসিসির প্রেসিডেন্ট চেন ইউয়ের মধ্যে চুক্তি সই হয়। বিদ্যুৎকন্দ্রের ইপিসি ব্যয় বাবদ চায়না ডেপেলপমেন্ট ব্যাংক ও চীনা এক্সিম ব্যাংক ১৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে। ইপিসি বাবদ ব্যয় হবে ১৫৬ কোটি ১০ লাখ ডলার।

জানা গেছে, সরকারি পর্যায়ে এত বড় প্রকল্পের এটাই প্রথম ইপিসি চুক্তি সই। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকন্দ্রের কাজ বহু আগে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তার ইপিসি চুক্তি হয়নি। চুক্তি সইয়ের দিন থেকে ৩৮ মাসের মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। এই কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি উত্পাদনে আসবে ২০১৯ সালের জুনে। দ্বিতীয় ইউনিট উত্পাদনে আসবে ওই বছরের ডিসেম্বরে। এই কেন্দ্র থেকে উত্পাদিত বিদ্যুতের দাম পড়বে ছয় টাকা ৬৫ পয়সা। কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে সর্বাধুনিক আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এখন প্রতিদিনই চার-পাঁচজন উদ্যোক্তা আমাদের মন্ত্রণালয়ে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসছেন। বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের জন্য ভালো পরিবেশ। আসলেই বাংলাদেশে পরিবর্তন ঘটে গেছে। এ এক নতুন বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, এই বাংলাদেশ আর সেই বাংলাদেশ থাকবে না। ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করবে বাংলাদেশ।   এই বিদ্যুৎকন্দ্র সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করবে। ’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্ট ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুত্সচিব মনোয়ার ইসলাম, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ এম খোরশেদ আলম প্রমুখ।


মন্তব্য