kalerkantho


ব্লগার ওয়াশিকুর বাবু হত্যার এক বছর

পরিকল্পনাকারী ‘বড় ভাইরা’ ও জুনায়েদ এখনো অধরা

এস এম আজাদ   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তরুণ ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যার পরিকল্পনাকারী আবদুল্লাহ ওরফে আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে বড়ভাই ও মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ ওরফে তাহেরকে এক বছরেও খুঁজে পাননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দুজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সক্রিয় সদস্য, যারা ওই মামলারও চার্জশিটভুক্ত আসামি। তদন্তে এবিটি সদস্য মাসুম ওরফে ইকবাল হাদি, শরীফ ও আবরারসহ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে। তবে পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় তাদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করেনি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এবিটির অন্তত ১০ জন জড়িত বলে তথ্য পায় তদন্তকারীরা। তবে মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তারের পরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি। এখন মামলাটির বিচারকাজ চলছে।

ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা এখনো এবিটির পরিকল্পনাকারী দলটিকে খুঁজছেন। চার্জশিট দাখিলের পর দু-একজনের ব্যাপারে তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

বাবু হত্যা মামলাটির তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চার্জশিট দেওয়ার আগেই কয়েকজনের নাম পেয়েছিলাম। তবে তখন পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে তাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। তবে পরে আরো তথ্য পেয়েছি। চার্জশিটে থাকা দুই বড়ভাইকে ধরার চেষ্টা চলছে। ’ জানতে চাইলে এডিসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। এখন আদালত বিষয়টি দেখছেন। মূলত আমাদের কাজ শেষ। তবে আসামি পেলে আমরা আদালতে মামলার পুনঃ তদন্তের আবেদন করব। ’

গত বছরের ৩০ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ীর দীপিকা মোড় এলাকায় ব্লগার বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় একাধিক হিজড়া ও এলাকাবাসী মিলে জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম নামের দুজনকে আটক করে। ওই দিনই ওয়াশিকুর রহমান বাবুর ভগ্নিপতি মনির হোসেন মাসুদ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় আটক দুজনসহ তাহের ও মাসুমের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাঁচ দিন পর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সাইফুল নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গত বছরের ২০ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সাইফুল। এরপর পাঁচ মাসের তদন্ত শেষে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে চাজশিট জমা দেন ডিবির তত্কালীন পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান। ওই চার্জশিটে আব্দুল্লাহ ওরফে হাসিব ওরফে বড়ভাইকে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার নির্দেশনায় অন্য চারজন—মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ ওরফে তাহের (পলাতক), জিকরুল্লাহ, আরিফুল ও সাইফুল এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। চার্জশিটের প্রধান দুই আসামিই এখনো পলাতক। আদালত তাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। অন্য তিনজন জেলহাজতে।

সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ আগে, গত ২৩ মার্চ যাত্রাবাড়ীর নয়ানগরের একটি বাসায় এবিটির সদস্যদের বৈঠক করে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। বৈঠকে আব্দুল্লাহ ওরফে হাসিব, মাসুম ওরফে ইকবাল, শরীফ, তাহের ওরফে জোনায়েদ, আবরার, জিকরুল্লাহ, আরিফুল ও সাইফুল উপস্থিত ছিল।


মন্তব্য