kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টিআইবির সংলাপে বিশেষজ্ঞ অভিমত

জলবায়ু তহবিলের টাকা খরচে স্বচ্ছতার অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জলবায়ু অভিযোজন তহবিলের টাকা খরচে শুধু সরকারের মধ্যেই নয়, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), উন্নত দেশগুলোর সরকার—সবার মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা বলেন, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শুধু সরকারকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করলে হবে না, জলবায়ু তহবিলের অর্থ যারা ছাড় করে, যারা সে টাকা খরচ করে এবং যারা তার হিসাব রাখে, তাদের সবাইকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে।

তা না হলে এ টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কোনো উপকার হবে না; যে উদ্দেশে টাকা খরচ করা হচ্ছে, সেটি সফল হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজন তহবিল : স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনঅংশগ্রহণ’ শীর্ষক সংলাপে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ অভিমত তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও জলবায়ু অভিযোজন তহবিলের টাকা খরচে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। এখানে তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করা এবং মান্য করায়ও ঘাটতি রয়েছে।

দিনব্যাপী সংলাপের প্রথম অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ড. সালিমুল হক বলেন, ‘যেকোনো দেশের সরকারকে আমরা স্বচ্ছ হওয়ার জন্য বলি; কিন্তু শুধু সরকারকে স্বচ্ছ হলেই তো হবে না। জলবায়ু অভিযোজন তহবিলের সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদের সবাইকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। ’ তিনি বলেন, অনেক এনজিও এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা আছে, যাদের অর্থ খরচে স্বচ্ছতার অভাব আছে। তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। উন্নত বিশ্বে কিছু ঘটলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। এ দেশে এ ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।

তথ্য অধিকার আইন এখনো যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি উল্লেখ করে সালিমুল হক বলেন, ‘আমার জানা মতে, অনেক বেসরকারি সংস্থায় তথ্য দেওয়ার জন্য এখনো ফোকাল কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সরকারি দপ্তরেও একই অবস্থা। ’

কপ-২১-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি সাদেক বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থ পেতে অনেক জটিল শর্ত পূরণ করতে হয়। শর্ত পূরণ করতেই দুই বছরের বেশি সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজন তহবিলের অর্থছাড় পদ্ধতিতে দুর্বলতা রয়েছে। উন্নত দেশ ও সংস্থার মধ্যেও জবাবদিহির অভাব প্রকট।

সংলাপের প্রথম পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডাপটেশন ফান্ড এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান বিশ্লেষক আলফা কানোগা। সঞ্চালনা করেন টিআইবির উপনির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের।

সংলাপের প্রধান অতিথি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ বলেন, নিরীক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হওয়ার জন্য আরো সময় লাগবে। তিনি জানান, তাঁর অফিস এ পর্যন্ত শতাধিক জলবায়ুসংক্রান্ত প্রকল্পের নিরীক্ষা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জলবায়ু অভিযোজন তহবিলের অর্থ খরচে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ব্যাপারে টিআইবি সব সময় তত্পর থাকবে।

সংলাপে অংশ নেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজান আর খান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক প্রমুখ।


মন্তব্য