kalerkantho


একাত্তর হলের তিন লিফটে ত্রুটি, ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা

রফিকুল ইসলাম   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল চালু হয়েছে গত বছর। ৫০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত হলটিতে এক হাজার শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ওঠানামার সুবিধার জন্য রয়েছে ছয়টি লিফট। কিন্তু তিনটি লিফটই (পদ্মা-১, যমুনা-২ ও হাউস টিউটর-২) ত্রুটিপূর্ণ। কয়েকবার সারানো হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ত্রুটির কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের জামানতের (লিফট ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বাবদ) ৭০ লাখ টাকা আটকে রেখেছে হল প্রশাসন। তবে লিফটের ত্রুটির দায় নিতে রাজি নয় নির্মাণকারী তমা কনস্ট্রাকশন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মোখলেসুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই লিফট স্থাপন করা হয়েছে। নমুনা (স্যাম্পল) দেখিয়ে প্রকৌশল দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে লিফট স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপনের পর কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, সেগুলো সারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার ত্রুটি দেখা দেয় কি না দেখার জন্য হলের তদারকি কমিটি দুই মাস সময় নেয়।

ওই সময়ের মধ্যে অভিযোগ করা হয়নি। এরপর ছয় মাস পার হয়ে গেছে; এখনো টাকা দেয়নি হল কর্তৃপক্ষ।

২০১০ সালের জুন মাসে মাস্টারদা সূর্য সেন হল ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের মাঝের জায়গায় ১১ তলা বিজয় একাত্তর হলের নির্মাণ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর আওতায় বিজয় একাত্তর হল ও শহীদ মুনীর চৌধুরী ভবন নির্মাণ এবং মোকাররম হোসেন বিজ্ঞান ভবনের বর্ধিতাংশের সংস্কার শুরু হয়। মোট বাজেট ছিল ১২১ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয় একাত্তর হল উদ্বোধন করেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে হল চালু করা হয়।

ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে লিফটগুলো বদলানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বিজয় একাত্তর হল প্রশাসন। এখনো এ বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রকৌশল দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, অন্য তিনটি লিফট ঠিকমতো দেওয়া হলেও এ তিনটি ঠিকমতো দেওয়া হয়নি। স্থাপনের পর থেকে নানান ত্রুটি দেখা যাচ্ছে এগুলোতে। যে আকারের লিফট দেওয়ার কথা ছিল তা দেওয়া হয়নি।

একাত্তর হলের একজন আবাসিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকৌশল দপ্তরের যোগসাজশে ত্রুটিপূর্ণ তিনটি লিফট স্থাপন করা হয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে আবাসিক শিক্ষক-২ লিফটটি স্থাপন করা হয়েছে। ভবনের নির্মাণের সময় লিফট স্থাপনের জন্য যে পরিমাণ ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে সে মাপে লিফট দেওয়া হয়নি; ছোট লিফট দেওয়া হয়েছে। লিফটের দুই পাশে প্রায় এক ফুট করে ফাঁকা অংশ ইট-বালু দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু ভেতরে ফাঁকা রয়ে গেছে। ফলে লিফট চলার সময় কাঁপে।

তিনটি লিফট ঠিকমতো কাজ করছে না বলে হল প্রশাসন উদ্বিগ্ন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ছয়টি লিফটের তিনটিতে স্থাপনের পর থেকেই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েকবার ঠিক করার পরও সমস্যা রয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, চালুর পর থেকেই লিফটগুলোতে সমস্যা হচ্ছে। কয়েকবার ত্রুটি সারানো হয়েছে, তবে স্থায়ী সমাধান হয়নি। ছাত্রদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এগুলো বদলে দেওয়া উচিত। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের আবেদনের পর আমরা বিষয়টি খুব ভালোভাবে দেখছি। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য