kalerkantho

26th march banner

ধানসাগর স্টেশন এলাকায় ১২ বছরে ১৪ বার আগুন

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সুন্দরবনের শুধু ধানসাগর স্টেশন এলাকায়ই গত ১২ বছরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে ১৪ বার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৪০ একর বনভূমি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বনের পরিমাণ আরো বেশি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সুন্দরবনে বারবার অগ্নিকাণ্ডের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। পাশাপাশি বন্য প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগুনের কারণে মাটির উর্বরতাশক্তি কমে যায়। বনের যে এলাকা পুড়ে গেছে, ওই এলাকায় জোয়ার-ভাটা না থাকলে নতুন করে ম্যানগ্রোভ জন্মাতে সময় লেগে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার আগুনের হাত থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য বনসংলগ্ন এলাকাবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে। ’ পাশাপাশি তিনি বন বিভাগের জন্য নিজস্ব ফায়ার স্টেশন স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুন্দরবন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ থেকে চলতি ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত ১২ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শুধু ধানসাগর স্টেশনের আওতাধীন এলাকায় ১৪ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, বাইন, সিংড়াসহ অনেক মূল্যবান গাছ পুড়ে গেছে।

সর্বশেষ গত রবিবার রাতে ধানসাগর স্টেশনের নাংলি ক্যাম্পের আওতাধীন শিকদারবাড়ির ছিলা এলাকায় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার দুপুর হয়ে যায়। আগুনে প্রায় আধা একর বনভূমি পুড়ে গেছে। বন বিভাগ দাবি করেছে, মাছ ধরার সুবিধার্থে জেলেরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বনের বিভিন্ন এলাকায় আগুনের ক্ষত রয়ে গেছে। আগুন লাগা এলাকায় নতুন করে ম্যানগ্রোভ জন্ম নিচ্ছে না। ভোলা নদীর পাশ থেকে সুন্দরবনের সীমানা শুরু হলেও কোনো কোনো এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার বনের ভেতরে যাওয়ার পর গাছপালার দেখা মিলছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলাধীন বনসংলগ্ন উত্তর রাজাপুর, দক্ষিণ রাজাপুর ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের মানুষ হরহামেশা সুন্দরবনে আসা-যাওয়া করছে।

রবিবারের আগুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি মঙ্গলবার থেকে তদন্তকাজ শুরু করেছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে হবে তিনি জানান।

সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ জানান, নিভিয়ে ফেলা আগুনের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য চার সদস্যের একটি দল করা হয়েছে।


মন্তব্য