kalerkantho

26th march banner

‘উন্নয়নে’ বিলীন ঐতিহ্য

ধ্বংস হচ্ছে অন্নছত্র কাটরা

আপেল মাহমুদ   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কালের সাক্ষী পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের অন্নছত্র কাটরা ধ্বংস হচ্ছে ‘উন্নয়ন’ আয়োজনে। ঐতিহ্য রক্ষার বদলে ট্রাস্টিরাই এ সম্পত্তি তুলে দিয়েছেন ডেভেলপার কম্পানির হাতে। এখন সেখানে চলছে বহুতল বিপণিবিতান গড়ার আয়োজন। এ ঘটনার প্রতিবাদ, আপত্তি চুপসে যাচ্ছে দ্রুতই নানা সমঝোতায়। মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে বিস্তর।

ওয়াইজঘাটের বাসিন্দারা জানায়, ঢাকার এক জমিদার মদন মোহন পাল অনাহারী মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে ১৯২৪ সালে ‘অন্নছত্র কাটরা’ গড়ে তোলেন। কাটরার দোকানপাট, অফিস, মেস, হোটেল ভাড়ার আয় থেকে গরিব মানুষের অন্নের ব্যবস্থা করা হতো। একপর্যায়ে জমিদারির সব সম্পত্তি মদন মোহন পাল অন্নছত্র ট্রাস্টের নামে উইল করে যান। তাঁর অবর্তমানে দুই ছেলে রজনীকান্ত পাল ও মুরলীকান্ত পাল এবং ভাইপো প্রিয়নাথ পাল এ ট্রাস্টের হাল ধরেন। নবাবপুর, সিদ্দিকবাজার, পাটুয়াটুলী ও ওয়াইজঘাটের সম্পত্তির আয় দিয়ে ট্রাস্টের কার্যক্রম চলত। এসবের মধ্যে ২ নম্বর ওয়াইজঘাটের অন্নছত্র কাটরা উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা হরকুমার রায় বলেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি, কাটরার সামনে প্রতিদিন শত শত অভুক্ত মানুষ। জমিদার নিজ হাতে তাদের পাত্রে খাবার তুলে দিতেন। আগে ঘন ঘন খরা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতো। তখন অনাহারী মানুষ শহরমুখী হতো। যারা ঢাকায় আসত তাদের মুখে আহার জুটত ওয়াইজঘাটের এ অন্নছত্র কাটরা থেকে। ’

ওয়াইজঘাটের বাসিন্দারা জানায়, ভবন সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য অন্নছত্র কাটরার তিন বিঘা জমি পুরান ঢাকার আবাসন কম্পানি বাবুলী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জমিটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। পাটুয়াটুলীতে ট্রাস্টের একটি বাড়িও তাদের দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২০ তলা ভবন নির্মাণের কথা। এরই মধ্যে তিন তলা পর্যন্ত কাজ হয়েছে। কাটরার পুরনো ভাড়াটিয়া এম ভট্টাচার্য্য অ্যান্ড কম্পানির হোমিও ওষুধের দোকানটি তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন দোকান বরাদ্দ না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে তাদের বিদায়ের চেষ্টা চলছে। ঐতিহাসিক ছোট কাটরা, বড় কাটরা, মুকিম কাটরা, মায়া কাটরা এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। টিকে ছিল শুধু অন্নছত্র কাটরা। এখন সেটাও ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টি চন্দন রায় বলেন, ‘অন্নছত্র কাটরার দোকান নিয়ে আসলে কী হচ্ছে সেটা আমাদের জানা নেই। সবচেয়ে পুরনো ভাড়াটিয়া হিসেবে কাটরার নতুন ভবনে এম ভট্টাচার্য্য নতুন দোকান পাওয়ার দাবিদার। দুই কোটি টাকার বিনিময়ে কেউ এ দাবি থেকে সরে যেতে পারেন না। ’

কাটরার পুরনো ভাড়াটিয়া সিকো ইলেকট্রনিকসের ব্যবস্থাপক আফছার উদ্দীন বলেন, ‘কাটরার মধ্যে যেসব দোকান ছিল সবই পুরনো। কাউকে নগদ টাকা দিয়ে আবার কাউকে দোকান দেওয়ার কথা বলে সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। ’

ট্রাস্টের ব্যবস্থাপক পরিমল ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সব হিসাব-নিকাশ দেখে ট্রাস্টি বোর্ড। কিভাবে ওয়াইজঘাটের তিন বিঘা সম্পত্তি বাবুলী কনস্ট্রাকশনকে দিয়েছেন সেটা ট্রাস্টিরাই ভালো বলতে পারবেন। ’


মন্তব্য